মেট্রোরেলের লাইনের বৈদ্যুতিক তারে ফের কাপড় পড়লো। এতে ট্রেন চলাচলে ৪০ মিনিট বিঘ্ন ঘটেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের কাছে লাইনে এই ঘটনাটি ঘটে। দীর্ঘ সময় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় স্টেশনগুলোতে আটকা পড়ে যান হাজারো যাত্রী। ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র জানিয়েছে, কাপড় অপসারণের জন্য সময় লেগেছে ৪০ মিনিট। এই সময়ের মধ্যে ল্যুপে ট্রেন চালানো হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ৩৪ থেকে ৫টা ১৩ মিনিট পর্যন্ত ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
লাইনের উপর কাপড় পড়ায় কাওরানবাজার থেকে মতিঝিলগামী রুটে ট্রেন চলাচল পুরো বন্ধ ছিল। আবার মতিঝিল থেকে কাওরানবাজার ট্রেন চলাচল করেছে সাবধানে সীমিতভাবে। অন্যদিকে, উত্তরা উত্তর থেকে কাওরানবাজার লাইনে ল্যুপ করে চলেছে ট্রেন।
মেট্রোরেল চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় ভোগান্তিতে পড়ে যান শতশত যাত্রী। বিশেষ করে কাওরানবাজার থেকে মতিঝিল অংশের যাত্রীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে স্টেশনগুলোতে। উত্তরা উত্তর থেকে কাওরানবাজার অংশের যাত্রীরাও পড়ে যান বিপাকে। পিক আওয়ারে মেট্রোরেলে সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকে। অর্থাৎ দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই সময় ব্যস্ততম সময়। কারণ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মরতরা অফিস থেকে বাসায় ফেরার জন্য মেট্রোরেলের উপর নির্ভর করেন। ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় স্টেশনগুলোতে এসে বিপাকে পড়ে যান ওই সকল যাত্রী।
খলিলুল ইসলাম নামের এক যাত্রী বলেন, আজকেই প্রথম মেট্রোরেলে এত হয়রানির শিকার হলাম? ট্রেন মিরপুর ১০ নম্বর স্টেশনে প্রায় ১০-১২ মিনিট দাঁড়িয়ে ছিল, এরপর শেওড়াপাড়ায় ৪-৫ মিনিট, পরে আবার বিজয় সরণিতে ৭-৮ মিনিট স্টপ ছিল, এরপর সবকিছুই উল্টাপাল্টা দেখাচ্ছে লোকেশন? সবকিছুই প্যাঁচ লাগিয়ে দিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থানকারী মিরাজ আল ওয়াসি নামের আরেক যাত্রী বলেন, মেট্রোরেলে যাত্রীসেবায় ব্যাপক ঝামেলা হচ্ছে, যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও ট্রেনে উঠতে পারছেন না। আমিও দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে পরে স্টেশন ত্যাগ করেছি। শেওড়াপাড়া স্টেশন থেকে কাওরানবাজারে এসেছেন মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, প্রতিদিন সবমিলিয়ে ১০ থেকে ১২ মিনিট লাগে। আজ এক ঘণ্টার উপর সময় লাগলো। অফিসে ৪টার মধ্যে ঢুকার কথা থাকলেও ৫টা পার হয়ে গেছে আসতে।
সমস্যার কথা জানিয়ে ডিএমটিসিএল’র পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইন্টেন্যান্স) মো. নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময়ে মেট্রোরেল চলেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওভারহেড ক্যাটিনারির উপর কেউ কাপড় ফেলেছে। সে সময় আমরা ল্যুপ করে, অর্থাৎ পার্সিয়াল অপারেশন করেছি। উত্তরা থেকে কাওরানবাজার স্টেশনের ল্যুপ করে চালানো হয়েছে। আর কাওরানবাজার থেকে মতিঝিল অংশের লাইনে একপাশে চালানো হয়েছে। অর্থাৎ, মতিঝিল থেকে কাওরানবাজার পর্যন্ত এসেছে। এসময়ে আমরা সাধারণ সিডিউল মেনে ট্রেন চালাতে পারিনি। কাপড় অপসারণ করার পর ট্রেন চলছে।
মেট্রোরেলের লাইন ঘিরে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা অহরহ ঘটছে। গতকাল কাপড় পড়ার মতো ঘটনা ছাড়াও এক বছরের ঘটনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০২৫ সালের ৫ই মার্চ বাতাসে উড়ে আসা বড় একটি পলিথিন লাইনের ওপর পড়ে। উত্তরা দক্ষিণ ও পল্লবীর মাঝামাঝি অংশে উত্তরা থেকে মতিঝিলমুখী ট্রেন চলাচল ১২ মিনিট বন্ধ রাখা হয়; ২২শে নভেম্বর উত্তরা সেন্টার-উত্তরা দক্ষিণ অংশে লাইনে একটি ড্রোন পড়ে থাকায় ট্রেন চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল; ২৫শে নভেম্বর লাইনে একটি ব্যাগ পড়ে থাকায় ট্রেন চলাচল ২০ মিনিট বন্ধ ছিল।
ডিএমটিসিএল এ ঘটনায় যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখও প্রকাশ করে; ৩রা ডিসেম্বর উত্তরা উত্তর ও উত্তরা দক্ষিণের মধ্যবর্তী অংশে মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক তারের উপর কাপড় পড়ে যায়। ফলে প্রায় ১৫-১৬ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল; এ বছরের ১৪ই এপ্রিল কাওরান বাজার এলাকায় মেট্রোরেলের উচ্চভোল্টেজ বৈদ্যুতিক লাইনে গ্যাস বেলুন আটকে যায়। নিরাপত্তার কারণে তখনও ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়; ১৩ই জুন শাহবাগ স্টেশনের লাইনে বিড়াল ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তার কারণে ট্রেন বন্ধ রাখা হয়; ২৮শে জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের কাছে হাই-ভোল্টেজ তারে একগুচ্ছ গ্যাস বেলুন আটকে যায়। ঘটনাস্থল থেকে বেলুন সরাতে প্রায় ১৫-২০ মিনিট লেগে যায়। ততক্ষণ বন্ধ রাখা হয় ট্রেন।
