ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পদদলিত করলেন শিক্ষার্থীরা

ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পদদলিত করলেন শিক্ষার্থীরা

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমের ছবি লাগিয়ে পদদলিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ব্যানারে ছাত্রদলের কর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। ছবি পদদলিত করা শিক্ষার্থীরা জানান, ডাকসুর সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ এবং তৎকালীন ছাত্রসংঘের নেতা আব্দুল মালেকের ছবি লাগানোর প্রতিবাদে তারা এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তাদের দাবি, ডাকসু’র সংগ্রহশালায় জিন্নাহ ও আব্দুল মালেকের ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদ জানাতেই তারা জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি প্রবেশপথ ও সংগ্রহশালার মেঝেতে লাগিয়ে পদদলিত করেছেন।

কর্মসূচি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০২৫-২৬ বর্ষের শিক্ষার্থী শিব্বির আহমেদ বলেন, ডাকসু’র মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক, যার ইশতেহারে ছিল মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরা, তিনিই একজন পাকিস্তানপন্থিকে ডাকসু সংগ্রহশালায় দেয়ালের মধ্যে সম্মানের সঙ্গে তার ছবি লাগাতে চেয়েছেন। ক্ষমতা দেখিয়ে তিনি এটা করেছেন। তিনি বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ক্ষমতা দিয়ে এবং বাংলাদেশপন্থিদের ক্ষমতা দিয়ে গোলাম আযম ও জিন্নাহ’র ছবি, পাকিস্তানপন্থিদের ছবি পায়ের নিচে লাগালাম। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশে কোনো পাকিস্তানপন্থি রাজনীতি সামনে আনা যাবে না। আমরা দেখেছি বিগত দিনে শেখ মুজিবের ছবি দিয়ে রাজনীতি পরিচালনা করা হতো। এখানে স্পষ্ট যে, শেখ মুজিবের ছবির রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে তারা জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি আনতে চেয়েছে।
প্রসঙ্গত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের তৎকালীন গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র ছবি রাখাকে ভাষা আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণাও দেয়া হয়েছে।

সংস্কারকাজ শেষে গত রোববার ডাকসু সংগ্রহশালাটি চালু করা হয়। সেখানে পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র তিনটি ছবি স্থান পায়। এর মধ্যে একটি ছবি ১৯৪৮ সালের ২১শে মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানের (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) একটি অনুষ্ঠানের। ওই অনুষ্ঠানে জিন্নাহ ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘কেবল উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।’ এ ছাড়া ১৯৪০ সালের মার্চে লাহোরে নিখিল ভারত মুসলিম লীগের বার্ষিক সম্মেলনের একটি দলগত ছবি এবং ডন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের পেপার কাটিংও সংগ্রহশালায় রাখা হয়। পাশাপাশি তৎকালীন ছাত্রসংঘের সাবেক নেতা আবদুল মালেকের ছবিও স্থান পায়।

এর আগে, গত সোমবার ডাকসু নবসংস্কার করা সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ’র ছবি স্থাপনের প্রতিবাদে সেগুলো ভাঙচুর ও ছিঁড়ে ফেলেন উর্দু বিভাগের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার। আবার ওই ছবির স্থানে ছাত্র ফেডারেশন সাবেক জামায়াতের আমীর গোলাম আযমকে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুতা মারার ছবি সাঁটায়।