পৃথিবীর কক্ষপথ মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন করার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পক্ষ থেকে এমন আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা থাকার কথা এই প্রথম প্রকাশ্যে স্বীকার করা হলো। মার্কিন বিমান বাহিনীর সচিব ট্রয় মিঙ্ক জানান, শত্রুপক্ষের যেকোনো বৈরী তৎপরতা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে এই ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে মোতায়েন করা আবশ্যক ছিল। সোমবার এক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, যেকোনো পরিবর্তনশীল হুমকির জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তুত রয়েছে। তবে এই অস্ত্রের ধরন বা এটি কবে কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পরপরই মহাকাশে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়, মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবিলম্বে বিরত থাকা উচিত।
মার্কিন কর্মকর্তারা এই অস্ত্র পরিচালনার প্রযুক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন। দেশটির স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র জানান, মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক উভয় কৌশল ব্যবহার করা হতে পারে। এর মাধ্যমে শত্রুপক্ষের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত বা নষ্ট করা এমনকি প্রয়োজনে পুরোপুরি ধ্বংস করার সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও বলেন, সামরিক কমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় কাজেই এই সক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথের হুমকি ঠেকাতে তাদের প্রস্তাবিত গোল্ডেন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মহাকাশভিত্তিক এ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গত বছর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প স্পেস ফোর্সকে কেবল সুরক্ষাই নয়, বরং আক্রমণাত্মক বাহিনী হিসেবে কাজ করারও নির্দেশ দেন। ২০১৯ সালে আমেরিকান স্যাটেলাইট ও মহাকাশ সম্পদ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে স্পেস ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ। তবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন দীর্ঘদিন ধরে শত্রুর স্যাটেলাইট বিকল বা নজরদারি করার প্রযুক্তি তৈরি করছে। চলতি বছরের শুরুতে জানা যায়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার দু’টি স্যাটেলাইট অন্তত এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের তথ্য গোপনে নজরদারি করেছে। এর মাধ্যমে স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেয়া কিংবা স্যাটেলাইটের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার শঙ্কা রয়েছে। ২০২৪ সালেও রাশিয়ার এমন একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নিয়ে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, চীন ও রাশিয়া মহাকাশকে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে আধিপত্য বিস্তারে কাজ করছে।
