পশ্চিমবঙ্গের দুই বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নের শেষ তারিখ বুধবার। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম ও মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে নির্বাচন হবে ৬ই অক্টোবর। এই দু’টি আসনে সব রাজনৈতিক দলই শক্তি পরীক্ষায় নামতে চলেছে। সেইসঙ্গে প্রচারের আলোয় থাকার লড়াইয়েও। রাজ্যের অন্যান্য দল প্রার্থীদের নাম আগেই ঘোষণা করলেও বিজেপি শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপি’র শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু তিনি জয়ী ভবানীপুর কেন্দ্রটি রেখে দিয়ে নন্দীগ্রাম আসন থেকে পদত্যাগ করেছেন। এদিকে রেজিনগরে তৃণমূল কংগ্রেসের বহিষ্কৃত বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করে নওদা ও রেজিনগর দুটি আসনেই জয়ী হয়েছিলেন। তবে রেজিনগর আসনটি তিনি পুত্রের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন।
শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামে প্রার্থী করা হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাবেক আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথের মা হাসিরানি রথকে। রেজিনগরে বিজেপি’র প্রার্থী হয়েছেন মুর্শিদাবাদের সাবেক বিজেপি সভাপতি তথা দলের রাজ্য কমিটির সদস্য শাখারভ সরকার।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের ঠিক দু’দিনের মাথায় ৬ তারিখ উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে গুলি করে খুন করা হয় শুভেন্দুর তৎকালীন আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথকে। চন্দ্রনাথের পৈতৃক বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলারই চণ্ডীপুরে। তার মৃত্যুর পর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার হাসিরানি রথ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে সঙ্গী করে হলদিয়া মহকুমা শাসকের দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। হাসিরানি বলেছেন, দল তার ওপর ভরসা করেছে এবং সংগঠনও তার পাশে রয়েছে। তাই জয় নিয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। মুখ্যমন্ত্রীও বলেছেন, নন্দীগ্রামে বিজেপি রেকর্ড ভোটে জয়ী হবে। হাসিরানি রথ দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। জানা গিয়েছে, ১৯৮৮ সাল থেকে তিনি রাজনীতি করছেন। পঞ্চায়েত স্তরেও একাধিকবার জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে তার পুরনো পরিচিতি রয়েছে। এই অভিজ্ঞতাকেই এবার ভোটের লড়াইয়ে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি।
কংগ্রেসকে মমতার জোটের প্রস্তাব: উপনির্বাচনে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জোটের প্রস্তাব নিয়ে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপালের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। কিন্তু তার কাছ থেকে কোনো সাড়া পাননি। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত বিধানসভা কেন্দ্র রেজিনগরের জন্য সমর্থন চাওয়ার পাশাপাশি বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
তবে জোটের দিকে না তাকিয়ে কংগ্রেসই প্রথম
উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি শুভঙ্কর সরকার বলেছেন, বিজেপি-বিরোধী আদর্শের দলগুলোর জন্য কংগ্রেসের দরজা বন্ধ নয়, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে ‘বোঝা’ বা দায় হিসেবেই মনে হচ্ছে, যা জোটকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ভেঙে দিতে পারতো।
