আসিয়ান কাপের আগে ‘অনেক সমস্যা’ নিয়ে অস্বস্তিতে ডুলি

আসিয়ান কাপের আগে ‘অনেক সমস্যা’ নিয়ে অস্বস্তিতে ডুলি

ফন্ট সাইজ:

আসিয়ান কাপকে সামনে রেখে বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় অনুশীলন ক্যাম্প করছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। এ ক্যাম্পে ১৯ দিন ধরে শিষ্যদের নিয়ে ব্যস্ত হেড কোচ টমাস ডুলি। ফুটবলারদের মানোন্নয়নের পথ ও পরিকল্পনার ছক এঁকে চলেছেন। তবে পরিকল্পনায় বাদ সেধেঁছে চোটের ধাক্কা ও ফিটনেস ঘাটতি। দলে একজন স্বীকৃত নাম্বার নাইন না থাকাটাও চিন্তার বিষয়। অনেক সমস্যা মাথায় নিয়ে আসিয়ান কাপের আগে অস্বস্তি বয়ে বেড়াচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ।
স্যান ম্যারিনোর বিপক্ষে ম্যাচের পর লম্বা সময় ছুটিতে ছিলেন ফুটবলাররা। সেই ঘাটতি পূরণে গত ২৭শে আগস্ট থেকে কিংস অ্যারেনায় শুরু হয়েছে জাতীয় দলের ক্যাম্প। হামজা চৌধুরী, শমিত সোম, ফাহমিদুল ইসলামরা প্রবাসে ব্যস্ত সময় কাটালেও স্থানীয় ফুটবলাররা মাঠের বাহিরে ছিলেন। ফিটনেস ধরে রাখতে কেউ কেউ একক অনুশীলন করেন।

দীর্ঘ বিরতির কারণে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে সেটি পূরণে অনুশীলনে বাড়তি চাপ দিয়েছেন ডুলি। দিনে দুইবার অনুশীলন করছে বাংলাদেশ দল। সেই ধকল সামলাতে না পেরে অনেকের পেশিতে টান পড়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘আমরা ম্যাচ শুরুর প্রায় চার সপ্তাহ আগেই ট্রেনিং সেশন শুরু করেছি। এটি আমাদের কিছু সময় দিয়েছে, যাতে তাদের ফিট করে তোলা যায়। এর জন্য শুরুতেই আমাদের বড় ধরনের কাজের চাপ নিতে হয়েছে, যার মানে দিনে দুবার করে অনুশীলন করানো।’ স্যান ম্যারিনোর বিপক্ষে জয়সূচক গোলে অ্যাসিস্ট করা বিশ্বনাথ ঘোষ অনুশীলনে হ্যামিস্ট্রিং চোটে পড়ে চার সপ্তাহের জন্য বিশ্রামে গেছেন । অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া ও ফয়সাল আহমেদ ভুগছেন পেশির চোটে। কেবল চোট সমস্যাই নয়, ফিটনেস ঘাটতির সঙ্গে গোল করার লোকের অভাব রয়েছে।

স্বীকৃত নাম্বার নাইন থাকার সমস্যাটা জাতীয় দলেই নয়, ঘরোয়া ফুটবলেও দেখা মেলে। এ পজিশনে ক্লাবগুলোর ভরসা বিদেশি ফুটবলার। সেটি স্পষ্ট করলেন ডুলি, ‘আমাদের দলে কোনো প্রথাগত নাম্বার নাইন নেই। আমাদের প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে-কেন আমাদের লিগে কোনো নাম্বার নাইন খেলোয়াড় তৈরি হচ্ছে না? প্রতিটি ক্লাবই তাদের ৯ নম্বর পজিশনে বিদেশি খেলোয়াড় ব্যবহার করে। ফলে আমরা স্থানীয় নাম্বার নাইন তৈরি করতে পারছি না।’ রক্ষণদূর্গ সামলানো বিশ্বনাথ স্যানম্যারিনোর বিপক্ষে আক্রমণভাগে দারুণ খেলেছেন। তৈরি করেন বেশ কয়েকটি সুযোগ। আসিয়ান কাপে বিশ্বনাথকে আক্রমণভাগে খেলানোর পরিকল্পনা ছিল ডুলির। তবে চোটের কারণে বিশ্বনাথ ছিটকে যাওয়ায় বিকল্প ভাবতে হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে রাকিব, মজিবুর রহমান জনি কিংবা শাহরিয়ার ইমনের মধ্য থেকে একজনকে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে খেলাতে পারেন কোচ। যদিও এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেননি। ডুলি বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই কাউকে না কাউকে খুঁজে নিতে হবে। আমাদের এমন কাউকে সেই পজিশনে বসাতে হবে, যে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বেশি সাহায্য করতে পারে।

সে কে হতে পারে? আমরা এখনো নিশ্চিত নই। আমার মাথায় কিছু ধারণা আছে- যেমন রাকিব, মজিবুর বা ইমন। আমাদের দেখতে হবে কে এগিয়ে আসে।’ প্রস্তুতি ক্যাম্পে আড়াই সপ্তাহে শারীরিক ফিটনেস নিয়েই কেবল কাজ করেছেন ডুলি। খেলোয়াড়দের ফিটনেস ঠিক করে শুটিং ও ফিনিশিং নিয়ে কাজ করবেন তিনি। ১৯শে সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়ার আগে শিষ্যদের তিন দিন অনুশীলন করানোর সুযোগ পাচ্ছেন বাংলাদেশ কোচ। এ সময়ে চোট সামলে খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস তৈরি করা এবং একজন কার্যকর ‘নাম্বার নাইন’ খুঁজে বের করাই ডুলির জন্য বড় পরীক্ষা। প্রায় চার যুগ পর আসিয়ান কাপে খেলবে বাংলাদেশ। ২৫শে সেপ্টেম্বর মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের সেই অভিযান শুরু হবে। এরপর ২৮শে সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুর এবং ১লা অক্টোবর স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।