শায়েস্তাগঞ্জে ঘাস সংকটে কমে যাচ্ছে দুধ উৎপাদন, বিপাকে খামারিরা

ফন্ট সাইজ:

শায়েস্তাগঞ্জের দুগ্ধ খামারিদের জন্য বর্ষা যেন চরম দুর্ভোগের নাম। বছরের এ সময় একদিকে পশুখাদ্যের তীব্র সংকট, অন্যদিকে গাভীর দুধ উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসায় লোকসানের মুখে পড়েছেন খামারিরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় নিচু এলাকার ঘাসের জমি তলিয়ে যাওয়ায় এ সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। খামারিরা জানান, দীর্ঘ সময় কাঁচা ঘাসের জমি পানির নিচে থাকায় বাধ্য হয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে শুকনো খড়, ভুসি ও দানাদার খাদ্য কিনে গবাদিপশু পালন করতে হচ্ছে। দানাদার খাদ্যের পরিমাণ বাড়ালেও কাঁচা ঘাসের অভাব পূরণ না হওয়ায় গাভীর দুধ উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

স্বাভাবিক সময়ে যে গাভী প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ লিটার দুধ দেয়, বর্ষা মৌসুমে তা নেমে আসে ১০ থেকে ১২ লিটারে। এদিকে পশুখাদ্যের দামও বেড়েছে। প্রতি মণ খড় কিনতে হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকায়। ফলে প্রতিটি গবাদিপশুর পেছনে দৈনিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। অথচ দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিক্রি থেকে খামারিদের আয় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। দ্রুত কার্যকর সহায়তা না মিললে শায়েস্তাগঞ্জসহ হবিগঞ্জের ছোট ও মাঝারি অনেক দুগ্ধ খামার বন্ধ হয়ে যেতে পারে। শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন খামারি জানান, আগে নিজেদের জমিতে চাষ করা ঘাস দিয়েই গবাদিপশুর খাদ্যের বড় একটি অংশের চাহিদা পূরণ হতো। কিন্তু বর্ষায় ঘাসের জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এখন বাজার থেকে বাড়তি দামে খাদ্য কিনতে হচ্ছে। এতে দুধ উৎপাদন কমার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। একজন খামারি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে কয়েকটি গাভী থেকে যে পরিমাণ দুধ পাওয়া যেতো, বর্তমানে তার অর্ধেকও পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ গাভীর খাবারের খরচ কমেনি, বরং বেড়েছে। দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় দুধ সংগ্রহকারী ও বাজারেও।

খামারিদের কাছ থেকে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম দুধ সংগ্রহ করতে পারছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় দুধ ব্যবসায়ীরা। ফলে বিভিন্ন চিলিং সেন্টার ও মিষ্টির দোকানেও দুধের সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় খামারিরা দ্রুত প্রশাসন ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেছেন। তাদের মতে, বর্ষাকালীন পশুখাদ্য সংকটের স্থায়ী সমাধানে খামারিদের নিজস্ব জমিতে ঘাস চাষ ও সাইলেজ সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়া জরুরি।