নাগরিকদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়াল চীন

নাগরিকদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়াল চীন

ফন্ট সাইজ:

নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে চীন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে নাগরিকদের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়বে। নতুন আইনে বিদেশে গিয়ে চীনের নিরাপত্তা বা স্বার্থবিরোধী কাজে জড়ালে ফেরার পর তিন বছর পর্যন্ত বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হতে পারে। এছাড়াও প্রযুক্তিগত আমদানি-রপ্তানি আইন ভাঙলেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আসবে। তবে কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই নিয়ম চালু করা হয়েছে। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।

সমালোচকদের দাবি, বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের মতপ্রকাশ দমন করতে বেইজিং এই কৌশল নিয়েছে। অধ্যাপক টম কেলগ জানান, সরকারের সমালোচনা বন্ধ করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অনেকের পাসপোর্ট আটকে দিচ্ছে। তবে সরকারি সংস্থাগুলোর দাবি, অবৈধ জুয়া, সাইবার জালিয়াতি ও প্রতারণার ফাঁদ থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে চীনা নাগরিকরা অঘোষিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ করছেন। ২০১৯ সালের হংকং বিক্ষোভে অংশ নেয়া পিপি নামের এক তরুণ জানান, ২০২৩ সালে তার পাসপোর্টের আবেদন বাতিল করা হয়। কোনো লিখিত কারণ ছাড়াই কর্মকর্তারা তাকে মৌখিকভাবে জানান যে তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। জেলে যাওয়ার ভয়ে তিনি কোনো আইনি পদক্ষেপ নেননি। নাগরিকরা আগে থেকে জানতে পারেন না তাদের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না। বিমানবন্দর বা পাসপোর্ট অফিসে গিয়েই কেবল বিষয়টি জানা যায়।

মানবাধিকার সংস্থা সেফগার্ড ডিফেন্ডার্সের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে চীনে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০১৬ সালে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের নথিতে নিষেধাজ্ঞার মাত্র ৮৯টি রেকর্ড ছিল। গত বছর সেই সংখ্যা বেড়ে এক লাখ ৮৮ হাজার ছাড়িয়েছে। নতুন নিয়মে ঝুঁকিপূর্ণ দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সীমান্তরক্ষীদের কড়াকড়ি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সরকারি চাকরিজীবী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অনেক আগে থেকেই পাসপোর্ট জমা রাখতে হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বিধিনিষেধ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অধীনে বাড়তে থাকা কড়া মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণেরই বহিঃপ্রকাশ। যা মাও সে তুং এর আমলের বিচ্ছিন্ন চীনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।