উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা নেতা কিম জং উনের গোপন কোনো ছেলে সন্তান আছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা। তবে এমন কোনো ছেলে সন্তান থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি কিমের উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থানে নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (এনআইএস) জানায়, কিম জং উনের কোনো ছেলে সন্তান আছে কি না, তা যাচাইয়ের চেষ্টা এখনো চলছে।
২০১১ সালে বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার হাল ধরেন ৪২ বছর বয়সী কিম জং উন।
এনআইএস তাদের আগের মূল্যায়নও পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, কিম জং উনের মেয়ে কিম জু এ-ই বাবার পর উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব নেয়ার সম্ভাব্য উত্তরসূরি। কিম জু এ-র বয়স প্রায় ১৩ বছর বলে ধারণা করা হয়।
তবে কিম জু এ-র কোনো বড় ভাই আছে কি না, সেটি এখনো নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা।
এনআইএস বলেছে, বড় ভাইয়ের অস্তিত্ব থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি তার বাবার উত্তরসূরি হওয়ার অবস্থানে নেই।
এনআইএস জানিয়েছে, কিম জং উনের আরেকটি ছোট সন্তান রয়েছে। তবে ওই সন্তানের লিঙ্গ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
কিম জু এ-র রাজনৈতিক অবস্থান কতটা সুদৃঢ়- এনআইএসের বিবৃতিতে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে এর আগে সংস্থাটি কিম জু এ-র প্রকাশ্য কর্মকাণ্ড এবং তাকে দেয়া রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বিশ্লেষণ করে তার রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে মূল্যায়ন করে।
সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের জবাব হিসেবেই এনআইএসের এই বিবৃতি দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে কিম জং উনের স্ত্রী রি সল জুর কোনো ছেলে সন্তান নেই।
কিম জু এ-কে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা
২০২২ সালের শেষ দিক থেকে কিম জু এ বাবার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং বড় সামরিক কুচকাওয়াজের মতো অনুষ্ঠান।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাকে কিম জং উনের ‘সবচেয়ে প্রিয়’ অথবা ‘সম্মানিত’ সন্তান হিসেবে উল্লেখ করেছে।
একই সঙ্গে বাবার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক মর্যাদা তুলে ধরে নিয়মিত ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে।
২০২৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার এক আইনপ্রণেতা জানিয়েছিলেন, এনআইএস তাকে একটি সংসদীয় কমিটিতে বলেছে যে কিম জু এ-র একজন বড় ভাই রয়েছে।
তবে পরে গোয়েন্দা সংস্থাটি কিমের ছেলে সন্তান থাকার খবরটি এখনো যাচাই করা হচ্ছে বলে স্পষ্ট করে।
উত্তরসূরি প্রশ্নে কেন গুরুত্বপূর্ণ বড় ভাই?
কিম জু এ-র কোনো বড় ভাই আছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে বহির্বিশ্বের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর কারণ দেশটির গভীরভাবে প্রোথিত পুরুষতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং পুরুষ-প্রধান ক্ষমতার কাঠামো।
১৯৪৮ সালে উত্তর কোরিয়া প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশটির তিন নেতাই কিম পরিবারের পুরুষ সদস্য। কিম জং উনের আগে তার বাবা কিম জং ইল এবং দাদা কিম ইল সুং ক্ষমতায় ছিলেন।
