ইয়াবা ছিনতাই নিয়ে পালংখালী সীমান্তে গুলির লড়াই

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী সীমান্তে ২০ হাজার ইয়াবার একটি চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার রাত ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত পালংখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ফারিরবিল মাদ্রাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট ধরে গোলাগুলির শব্দে সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কয়েকজন অন্তত ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড গুলির শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ বলেন, রাত ১১টার দিকে ফারিরবিল কবরস্থানসংলগ্ন এলাকায় দুই পক্ষের লোকজনকে অবস্থান নিতে দেখা যায়। তার দাবি, দুই পক্ষ মিলিয়ে সেখানে প্রায় ৮০ জন লোক ছিল। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, পালংখালী স্টেশন থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার সময় পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের গেট পার হওয়ার পর পরই গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান তিনি।

পরে মোটরসাইকেল রেখে নিরাপদ স্থানে প্রায় ৩০ মিনিট অবস্থান করেন। স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি চালান বাংলাদেশে আনার সময় সেটি ছিনতাইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধের সূত্রপাত হয়। সূত্রটি জানায়, নলবনিয়া এলাকার মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত রুবেল ওরফে ‘ডাকাত রুবেলের সহযোগীরা ওই চালান নিয়ে আসছিল। এ সময় পালংখালী ইউনিয়নের খাইরুল বশর ও তার সহযোগীরা ২০ হাজার ইয়াবা ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রুবেল তার সহযোগীদের নিয়ে খাইরুল বশরকে খুঁজতে বের হন। একপর্যায়ে খাইরুল বশর পালংখালী স্টেশন হয়ে বটতলীর দিকে যাচ্ছেন, এমন খবর পেয়ে রুবেল পক্ষের লোকজন ফারিরবিল মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয় বলে ওই সূত্রের দাবি। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, গোলাগুলিতে রুবেল ওরফে ‘ডাকাত রুবেলের’ নেতৃত্ব ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। তার ভাই ইরান মাঝিও মাদক ও অস্ত্র মামলার আসামি। গত ৪ঠা সেপ্টেম্বর ভোরে ৫০ হাজার ইয়াবাসহ ইরান মাঝিকে গ্রেপ্তার করে বিজিবি। তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। অন্যদিকে খাইরুল বশরের পক্ষ হয়ে গোলাগুলিতে ছৈয়দুল বশর ওরফে ‘ছিছি বশর’ অংশ নেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তার বিরুদ্ধেও একাধিক মাদক ও অস্ত্র মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে একটি গোলাগুলির ঘটনায় ভারী আগ্নেয়াস্ত্রসহ ছিছি বশরকে র‍্যাব আটক করেছিল বলে স্থানীয়রা জানান। তবে সে সময় তার ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করা যায়নি। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, গত রোববার রাতের গোলাগুলিতেও তাকে ভারী অস্ত্র ব্যবহার করতে দেখা গেছে। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, গোলাগুলির খবর পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। রুবেল পক্ষের লোকজন গোলাগুলিতে জড়িত ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি আরও বলেন, রুবেলের বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। গোলাগুলির ঘটনায় তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পালংখালীর সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার ও ইয়াবার চালান ছিনতাইকে কেন্দ্র করে প্রায়ই সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।