আজ রাত থেকে শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

আজ রাত থেকে শিল্পে গ্যাস-বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিকের আশ্বাস

ফন্ট সাইজ:

সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ মঙ্গলবারের মধ্যে পূর্বের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, অস্থিতিশীলতা না করে সরকারকে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ দেয়া উচিত।
সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বরাও অংশ নেন।

তিন ঘণ্টাব্যাপী আলোচনায় ব্যবসায়ী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। সভায় ‘বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ তুলে ধরেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকটকে ‘উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এই সংকট ছয় মাস বা এক বছরের মধ্যে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পনা তৈরি করেছে এবং এখন সেগুলো বাস্তবায়নের পর্যায়ে রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সরকার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ধরে কাজ করছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

বর্তমান গ্যাস সংকটের কারণ ব্যাখ্যা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটিতে দুর্ঘটনার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শিল্পকারখানাসহ বিভিন্ন খাতে। তবে দুর্ঘটনাজনিত সমস্যাটি ইতিমধ্যে সমাধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আগামীকাল (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা থেকে গ্যাসের সরবরাহ এক-দেড় মাস আগে যে অবস্থায় ছিল, সে রকম একটা অবস্থায় ফিরে আসবে।’
ঘাটতি মোকাবিলায় তৃতীয় একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জিটুজি ভিত্তিতে গত এক মাসে আরেকটি টার্মিনাল স্থাপনের প্রস্তুতি মোটামুটি সম্পন্ন করা হয়েছে। দ্রুতই এর কাজ শুরু হবে। সরকার আগামী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তৃতীয় টার্মিনাল সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন সরকার প্রধান। বিদ্যুৎ খাতের সমস্যা দীর্ঘদিনের মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সমস্যা পর্যালোচনা করেছে, সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসেছে এবং সেগুলো সমাধানে পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সময় কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। তবে সরকারের সামনে একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা রয়েছে।

‘ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রভাব পড়ে পুরো দেশের ওপর’
ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসা ও শিল্প খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সামগ্রিক প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর পড়ে। ফলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান শুধু ব্যবসায়ীদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পৌঁছানোর যে লক্ষ্য নেয়া হয়েছে, তা অর্জন করতে হলে নিরবচ্ছিন্ন ও পর্যাপ্ত জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছে।

‘হতাশ হওয়ার কারণ নেই’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সমস্যার ব্যাপ্তি ও জটিলতা সম্পর্কে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় আগে থেকেই অবগত। সরকার সমস্যাগুলো আড়াল না করে খোলামেলাভাবে তুলে ধরেছে এবং কীভাবে সেগুলোর সমাধান করতে চায়, সেটিও জানিয়েছে। তিনি বলেন, ‘এতটুকু আমরা আপনাদের জানাতে চেয়েছি যে, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সে জন্য হতাশ হওয়ার মতো কারণ নেই।’
সরকারের পরিকল্পনা যৌক্তিক মনে হলে তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে শুধু ব্যবসায়ী সম্প্রদায় নয়, পুরো দেশ উপকৃত হবে।

দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জনগণই সময়মতো ঠিক করবে কাকে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব দেবে। তবে যে সময় যে সরকার দায়িত্বে থাকে, তাকে তার পরিকল্পিত কাজগুলো সম্পন্ন করার সুযোগ দেয়া উচিত।

গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
আলোচনায় গণমাধ্যমকর্মী ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের আমন্ত্রণ জানানোর কারণও ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা গণমাধ্যমের কাছে পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। তা না হলে বিচ্ছিন্ন তথ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। গণমাধ্যম সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেলে তা দেশবাসীর কাছেও সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় কোনো কাজ সফলভাবে করতে হলে একটি কার্যকর দল প্রয়োজন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সবাই একসঙ্গে কাজ করছেন, যাতে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা যায়। ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সহযোগিতা করবেন, যাতে আমরা আপনাদের জন্য আরও ভালো কিছু করতে পারি।’

এদিকে সভায় গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকারের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহ্দী আমিন। বলেন, দু’টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) থাকার কারণে বাংলাদেশের একটি নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল, যার মধ্যে একটি অনেক দিন ধরে কারিগরি ত্রুটির কারণে অচল ছিল। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার কেবল সেটি মেরামতই করছে না, বরং জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে বর্তমানে সচল দু’টি, এর পাশাপাশি ২০২৮ সালের আগে সম্ভব হলে তৃতীয়টি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে পাঁচটি এফএসআরইউতে উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যাতে গ্যাস সংকটের টেকসই সমাধান আনতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। তিনি আরও জানান, মধ্যমেয়াদে দেশের ভেতরে প্রায় ১৫০টি নতুন গ্যাসকূপ খনন হচ্ছে। এই ধাপ সফলভাবে শেষ হলে আরও ১৫০টি কূপ খননের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হবে। শুধু এফএসআরইউ’র ওপর নির্ভরশীল না থেকে, দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে ল্যান্ড-বেসড বা স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা যায় এবং জাতীয় গ্যাস পাইপলাইন নেটওয়ার্ক আরও সুদৃঢ় করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের বহুমুখী উদ্যোগ চলমান রয়েছে।

সভা শেষে এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক সাংবাদিকদের বলেন, শিল্প-কারখানাগুলোতে মঙ্গলবার রাত থেকে সংকট শুরুর আগের মতো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় আগামী দিনে দেশে কীভাবে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন হবে, তার একটি পরিষ্কার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে বলেও জানান— এফবিসিসিআই প্রশাসক। তার মতে, এর মাধ্যমে শুধু চলমান সংকটের সমাধান নয়, শিল্পের বিকাশ ও বিনিয়োগের চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হবে। জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন পরিকল্পনা নিয়েও ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হয়েছেন।

বিকেএমইএ’র ৬ দফা প্রস্তাবনা:
নিটওয়্যার খাতের টেকসই বিকাশ, আন্তর্জাতিক বাজার প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নীতিগত সমন্বয় নিশ্চিত করতে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও দিকনির্দেশনা চেয়েছে বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)। সংগঠনটির সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতে শিল্পের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলা ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নে ৬ দফা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা পেশ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে- অর্থ, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান এবং শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন (এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিইএফ)-এর প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা, যা মাসিক বা ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে শিল্প খাতের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। বিদেশি কোডের পরিবর্তে বাংলাদেশের পরিকাঠামো, সক্ষমতা ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বাস্তবায়নযোগ্য বাস্তবসম্মত ফায়ার কোড প্রবর্তন করা। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শিল্পের সম্ভাবনা, নতুন বিনিয়োগ এবং জাতীয় রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা বিবেচনায় রেখে গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ জ্বালানি সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান করা। যেকোনো নতুন বাণিজ্য ও শিল্প নীতিমালা তৈরির ক্ষেত্রে সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা এবং নীতি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সময় দেয়া। এনবিআর’র রাজস্ব, বন্ড, কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর সংক্রান্ত ডিজিটালাইজেশনকে আধুনিক করা, যাতে ব্যবসায়িক সময় ও খরচ কমে এবং হয়রানি বন্ধ হয়। বিদ্যমান অবকাঠামো, সক্ষমতা এবং অগ্নিনিরোধ ও ভবন নিরাপত্তার প্রয়োজনীয়তা বজায় রেখে ‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড’ সময়োপযোগী সংশোধন ও বাস্তবায়ন করা।
এদিকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আলাদা করে কোনো প্রস্তাবনা দেয়া হয়নি। মূল বিষয় ছিল গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান পরিস্থিতি জানা যাতে ক্রেতাদের অবহিত করা যায়। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে তৈরি করা যাতে পণ্য পরিবহন সহজ হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের কাজের দক্ষতা ও গতি বাড়ানো। কাস্টমসের ফাইল যেন বাধা ছাড়াই সচল থাকে। আর গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি যেন দ্রুত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে।

সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়:
বৈঠকে সম্ভাব্য বিদ্যুতের উৎপাদন ও চাহিদা পূরণে বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ব্যবসায়ীদের সামনে। এতে স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে কোন কোন খাত থেকে সম্ভাব্য কতোটুকু পরিমাণ বিদ্যুৎ আসবে তা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, সরকারের স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনায় বলা হয়েছে ভোলায় নতুন ১৯৫ মেগাওয়াট গ্যাসচালিত কেন্দ্র চালু করা হবে। ১৯টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্রয়চুক্তি (পিপিএ) পর্যালোচনায় ট্যারিফ কমানো হয়েছে এবং আরও ৫১টির সঙ্গে আলোচনা চলমান। এতে সরকারের ৫০০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা হয়েছে। চুক্তি শেষ হওয়া কেন্দ্রে ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়াই পুনরায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে মধ্যমমেয়াদি পরিকল্পনা তুলে ধরে বৈঠকে জানানো হয়, বড়পুকুরিয়া, পায়রা ও মাতারবাড়িতে নতুন বেজ-লোড বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে, বিদ্যুৎ সরবাহে গ্রিড ও বিতরণ নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন করা হবে, গ্রিডের স্থিতিশীলতা রক্ষায় ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ (বিইএসএস) স্থাপন করা হবে। কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো পূর্ণ ক্ষমতায় চালাতে কয়লা উত্তোলন ও সংরক্ষণ, সিরাজগঞ্জ, সোনাগাজী ও রামপালসহ দেশ জুড়ে পিপিপি মডেলে বড় সক্ষমতার সৌরকেন্দ্র স্থাপন, সিস্টেম লস ও ভুতুড়ে বিল রোধে স্মার্ট প্রি-পেইড মিটার বসানো হবে। আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে বলা হয়, ২০৪০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস হতে মোট উৎপাদনের ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে, দেশীয় গ্যাসের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ সক্ষমতায় ব্যবহার করা হবে, পরিবেশসম্মত প্রযুক্তিতে দেশীয় কয়লা উত্তোলনের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যয়বহুল তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বদলে সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। গ্রিড ব্যবস্থার আধুনিকায়নের মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ আমদানি করা এবং এসএমআর টেকনোলজির মাধ্যমে নিউক্লিয়ার উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় দেশে বিদ্যুতের সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮ থেকে ৪০ হাজার মেগাওয়াট।
প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন— বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন (আশিক চৌধুরী), বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব, পেট্রোবাংলা চেয়ারম্যান ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের মধ্যে ছিলেন— ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স-বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ঢাকার প্রেসিডেন্ট কামরান টি. রহমান, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র ডিরেক্টর শামস জামান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট রাজিব এইচ চৌধুরী, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আমিরুল হক, বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস এসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট আবুল কালাম, ফুটওয়্যার লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জাকারিয়া শহীদ, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজের প্রেসিডেন্ট আবদুল মুক্তাদির, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-প্রসেসর্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মাহবুব আনাম, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট শামীম আহমেদ, বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ময়নুল ইসলাম, বাংলাদেশ জুট মিলস এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. আবুল হোসেন, বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এম শাহাদাত হোসেন সোহেল, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার, বাংলাদেশ ইনসিওরেন্স এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাঈদ আহমেদ এবং রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলী আফজাল।

গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বদের মধ্যে মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ওয়াদা’র সম্পাদক শফিকুল আলম, সাংবাদিক আশরাফ কায়সার, মোস্তাফা ফিরোজ, আব্দুন নূর তুষার, আকবর হোসেন, শাহেদ আলম, রেজাউল করিম রনি, আজিজুর রহমান রিপন, তরিকুল ইসলাম সৌরভ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহরিন ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।