আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামের ওঠানামাজনিত ঝুঁকি কমাতে আমদানিকারকদের জন্য ‘হেজিং’ সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আগাম মূল্য নির্ধারণ ও মূল্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুযোগ পাবেন দেশের আমদানিকারকরা। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে দেশের সব অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকের কাছে পাঠিয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দামে দ্রুত পরিবর্তনের কারণে আমদানিকারকদের মূল্যঝুঁকি বাড়ছে। এ ঝুঁকি মোকাবিলা, পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ এবং বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে হেজিং ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারায় দেওয়া ক্ষমতাবলে ‘গাইডলাইনস অন হেজিং অব কমোডিটি প্রাইস রিস্ক ফর ইমপোর্ট ট্রেডস ইন ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটস, ২০২৬’ জারি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, নতুন এ নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
যেসব আমদানিকারক সুবিধা পাবেন
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, নিবন্ধিত এবং প্রকৃত আমদানি কার্যক্রমের রেকর্ড রয়েছে- এমন আমদানিকারকরা এ সুবিধা নিতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে:
১. অপরিশোধিত তেল, ভোজ্যতেল, ধাতু, খাদ্যশস্য, সারসহ বিভিন্ন প্রাথমিক কাঁচামাল ও মধ্যবর্তী পণ্য আমদানিকারক।
২. দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিকারক।
৩. কৌশলগত বা বৃহৎ পরিসরে পণ্য আমদানির সঙ্গে যুক্ত সরকারি খাতের প্রতিষ্ঠান।
যেভাবে হেজিং করা যাবে
নির্দেশনা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমদানিকারকরা বিভিন্ন আর্থিক ইনস্ট্রুমেন্টের মাধ্যমে হেজিং করতে পারবেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এক্সচেঞ্জে কমোডিটি ফিউচার্স, রেফারেন্স কমোডিটি সূচকের ভিত্তিতে ফরোয়ার্ড কনট্রাক্ট, মূল্য পার্থক্য ব্যবস্থাপনায় কমোডিটি সোয়াপ এবং পণ্য মূল্য সুরক্ষায় কমোডিটি অপশন ও অনুমোদিত অপশন স্ট্রাকচার।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, হেজিং সুবিধা কোনো ধরনের স্পেকুলেশন বা সাট্টাবাজি এবং লিভারেজড ট্রেডিংয়ের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। কেবল প্রকৃত আমদানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মূল্যঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যেই এসব হেজিং ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহার করতে হবে। নির্দেশনায় আরও বলা হয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ দেশের অন্যান্য এলাকায় কার্যরত অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকের মাধ্যমে নির্ধারিত কাঠামো ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এ সুবিধা নেয়া যাবে।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদেশি ঋণে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন লাগবে না
এদিকে বিশেষায়িত অঞ্চলে নিবন্ধিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া হয়েছে। তবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটিতে (সাবেক বিডা) নিবন্ধন না থাকা শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এ অনুমোদন নিতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ (এফইপিডি)।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলারে বলা হয়, গত ২ সেপ্টেম্বর জারি করা এফইপিডি-১ সার্কুলার নম্বর ৩২-এর ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধন করা হয়েছে। নতুন বিধানের ফলে ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটিতে নিবন্ধিত বিশেষায়িত অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বৈদেশিক ঋণ নিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে না।
অন্যদিকে, ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটিতে নিবন্ধিত নয়—এমন বিশেষায়িত অঞ্চলের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বৈদেশিক ঋণ নিতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংশোধিত বিধানের আওতায় সাবেক অর্থনৈতিক অঞ্চল (ইজেড) কোম্পানিগুলোর বৈদেশিক ঋণের প্রস্তাব ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির বৈদেশিক ঋণ/সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট যাচাই কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এফইপিডি-১ সার্কুলার নম্বর ৩২/২০২৬-এর অন্যান্য নির্দেশনা ও বিধান আগের মতোই বহাল থাকবে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংশোধিত নির্দেশনার বিষয়টি অবহিত করার জন্যও বলা হয়েছে।
