কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের জুড়ী উপজেলার যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামকে আইনশৃঙ্খলা কমিটিতে যুক্ত করা হয়েছে। তিনি সোমবার উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত জুড়ী প্রেস ক্লাবের সভাপতি তানজির আহমেদ রাসেল জানান, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পদবিতে থাকা কয়েকজন সাংবাদিক ‘জুড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাব’ নামের একটি সংগঠন পরিচালনা করতেন। তখন মূল প্রেস ক্লাবের পাশাপাশি ওই বিতর্কিত প্রেস ক্লাবের সভাপতিও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য ছিলেন। সভাপতিসহ তাদের কমিটির অধিকাংশ সদস্য আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ছাত্রলীগের পদধারী থাকায় গণ-অভ্যুত্থানের পর তাদেরকে আইনশৃঙ্খলা কমিটি থেকে বাদ দেয়া হয়।
তিনি জানান, সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সভাপতিত্বে এবং মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হঠাৎ করে জুড়ী উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলামকে দেখতে পাই। তৎক্ষণাৎ আমি ‘ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসনে ইউএনও চেষ্টা করছেন’ বলে প্রতিবাদ করি এবং একাধিক প্রেস ক্লাব সভাপতিকে সদস্য করার নিয়ম প্রজ্ঞাপনে নেই বলে জানাই। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতও এই কমিটিতে আছে। সরকার থেকে আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সবাইকে নিয়ে চলার জন্য। প্রজ্ঞাপনে যা-ই থাক, আমি নাসির উদ্দিন মিঠু এমপি এটা করেছি। তানজির রাসেল জানান, এমপির এই বক্তব্যের পর তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সভা বর্জন করে চলে যান।
চলতি বছরের ২৬শে ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ থেকে দেশের উপজেলাসমূহের আইনশৃঙ্খলা কমিটি সংশোধনপূর্বক পুনর্গঠনের অফিস আদেশ জারি করা হয়। এতে প্রেস ক্লাব সভাপতিকেও সদস্য করা হয়েছে। এ বিষয়ে জুড়ীর ইউএনও মো. ফজলে রাব্বানী চৌধুরী বলেন, জুড়ীতে দুইটি প্রেস ক্লাব আছে। একটির সভাপতি কমিটিতে ছিলেন, এমপির নির্দেশে অন্য প্রেস ক্লাবের সভাপতিকে সভায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সিরাজুল ইসলামের রাজনৈতিক পদবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি শুনেছেন বলে নিশ্চিত করেন। সংসদ সদস্য মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা সিরাজকে আওয়ামী লীগ হিসেবে আমন্ত্রণ জানাইনি, একটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। স্বেচ্ছাসেবক লীগের পদবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে সবাইকে নিয়ে চলার জন্য। তবে জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ এমপি জানান, এরকম কোনো নির্দেশনা সরকার দেয়নি। উনার কাছে এই ধরনের নির্দেশনা এসেছে কি না- তা জানা নেই। যারা বিগত সময়ে মানুষের জানমাল ও ইজ্জত-আব্রু ধ্বংস করেছে, তারা এখন আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্য হবে কীভাবে?
