কুমিল্লা জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলার আইনশৃঙ্খলা, সুশাসন ও সার্বিক উন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভার মূল আলোচনা শুরুর আগে সাংবাদিকদের সভাকক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও কুমিল্লার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান। ছবি তোলা শেষে সাংবাদিকদের পাশের কক্ষে গিয়ে অপেক্ষা করা ও ‘চা খাওয়ার’ পরামর্শ দেন তিনি। সোমবার বেলা ১১টায় কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা, সামাজিক কর্মসূচি, জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
সভায় সভাপতিত্ব করেন হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি। জেলা প্রশাসক রোজি আক্তারের সঞ্চালনায় নির্ধারিত সময়ে সভার কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে জেলা প্রশাসক রোজি আক্তার ও জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য দেন। পরে সভায় উপস্থিত বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
পরিচিতি পর্ব শেষে মূল আলোচনা শুরুর সময় হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান মাইকে বলেন, ‘এই আলোচনা সভায় যাদেরকে দাওয়াত দেয়া হয়নি তারা এখান থেকে চলে যান।’ এরপর সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক ভাইয়েরা ছবি তোলা হলে আপনারা চলে যান। পাশের রুমে গিয়ে অপেক্ষা করুন, চা খান। এখানে অনেক সংবেদনশীল আলোচনা হবে, বায়াস হবে।’
হুইপের এমন নির্দেশের পর উপস্থিত সাংবাদিকদের সভাকক্ষের বাইরে চলে যেতে বলা হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন ও জেলার উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সভার মূল আলোচনা সাংবাদিকদের উপস্থিতি ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং কুমিল্লা-৮ আসনের এমপি জাকারিয়া তাহের সুমন, বিরোধীদলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ আসনের এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৪ আসনের এমপি হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা-৭ আসনের এমপি আতিকুল আলম শাওন, কুমিল্লা-২ আসনের এমপি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা-৫ আসনের এমপি জসিম উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ভিপি ওয়াসিম, জেলা পরিষদ প্রশাসক হাজী মোস্তাক মিয়াসহ জেলার ১৭ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
