অবশেষে প্রত্যাহার ডিবি ওসি রাশেদুল ইসলাম

সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার

অবশেষে প্রত্যাহার ডিবি ওসি রাশেদুল ইসলাম

ফন্ট সাইজ:

সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্রত্যাহার করা হলো পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলামকে। পাবনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অশোভনীয় ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ওসির ভূমিকা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাকে পাবনা থেকে রংপুর রেঞ্জে পাঠানো হয়েছে। সোমবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ঢাকার অ্যাডিশনাল ডিআইজি আব্দুল্লাহ আল জহির স্বাক্ষরিত এক আদেশে রাশেদুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়। সংশ্লিষ্ট আদেশে তাকে রংপুর রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে। ডিবি ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তার নিজ কক্ষে এক নারীকে জিম্মি করে কুচক্রী মহলের যোগসাজশে পাবনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও অশোভনীয় বক্তব্যের ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা হয়।

পরে পরিকল্পিতভাবে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পাবনায় কর্মরত সাংবাদিকরা। ডিবি ওসি রাশেদুল ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিতে আল্টিমেটাম দেন তারা। রোববার পাবনা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে জেলার কর্মরত সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন থেকে এসব দাবি জানানো হয়। পরে পাবনা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপিও দেন সাংবাদিক নেতারা। মানববন্ধনে সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, ডিবি কার্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় একজন নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বা জিম্মি করে একজন সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে সাজানো ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া অত্যন্ত ন্যক্কারজনক।

এ ঘটনায় সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও একজন সংবাদকর্মীর সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এদিকে ওসি রাশেদুল ইসলামের প্রত্যাহারের পর এখন সাংবাদিকদের দাবি, শুধু ওসি প্রত্যাহার করলেই হবে না; ভিডিও তৈরির সঙ্গে জড়িত এবং এর পেছনে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।