১৭ বছরের ক্ষোভে মুরাদনগরের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনকে হত্যা

১৭ বছরের ক্ষোভে মুরাদনগরের ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেনকে হত্যা

ফন্ট সাইজ:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্য আনোয়ার হোসেনকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১৭ বছরের পুরনো গ্রাম্য বিরোধে হত্যাকাণ্ডের শিকার তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গত শনিবার মধ্যরাতে গোপনে পেন্নেই গ্রামের বাড়িতে যান আনোয়ার হোসেন। খবর ছড়িয়ে পড়লে শেষ রাতে একটি মসজিদের মাইকে ‘গ্রামে ডাকাত পড়েছে’ ঘোষণা দেয়া হয়। এরপর গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার ঘর ঘেরাও করে এবং তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। সকাল ৭টায় মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোমেনা ও মেয়েও আহত হয়ে কুমিল্লা জেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আনোয়ার হোসেনের বাবা ছিলেন ডাকাত সরদার। আনোয়ার নিজেও একসময় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। গ্রামবাসী একবার তাকে পেন্নেই গ্রাম থেকে বিতাড়িতও করে। পরে কোরিয়া চলে যায়, কোরিয়া থেকে ফিরে ‘আর ডাকাতি করবে না’ শর্তে তিনি মেম্বার নির্বাচিত হন। তিনি শ্রীকাইল ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন।
অভিযোগ উঠেছে, মেম্বার হওয়ার পর তিনি পেন্নেই গ্রামে গোষ্ঠীতে গোষ্ঠীতে বিভাজন সৃষ্টি করেন। একপক্ষের বিরুদ্ধে অন্যপক্ষকে দিয়ে মামলা, হামলা, লুটপাট করাতেন। আসামিদের জেল থেকে ছাড়ানোর আশ্বাসে মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন। টাকা না দিলে নারীদের যৌন হয়রানির অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিচারকদের কাছে ৭০টি ভুক্তভোগী পরিবারের তালিকা আছে বলে দাবি করা হচ্ছে। আনোয়ার হোসেনের কাছে গ্রামবাসীর প্রায় ১০ কোটি টাকা পাওনা। সেই টাকার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের আমলের ১৭ বছরে ড্রেজার দিয়ে আর্চি নদী থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অভিযানে গেলে তার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে বাঙ্গরা বাজার থানায় মামলাও আছে। পাল্টা ৬টি মামলা, ১০০ জন আসামি।

আনোয়ার হোসেনের ছোট ভাই কামাল হোসেন, জালাল হেসেন, শাখাওয়াত হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ৩ বছর ধরে গ্রামে যেতে পারি না। ১০ কোটি টাকা চাঁদা চাওয়ায় টাকা না দেয়ায় তাকে হাত-পায়ের রগ কেটে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
আনোয়ার হোসেন মেম্বার হত্যাকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী স্ত্রী মোমেনা বেগম ও মেয়ে বলেন, পেন্নেই গ্রামের সরদার মাতব্বরদের নির্দেশনায় রাত ৩টার সময় আমার ও আমার মেয়ের সামনে আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করে। আমি বাধা দিলে আমার হাতের রগ কেটে দেয়। আমার মেয়ে তার বাবাকে বাঁচাতে গেলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে। আমার স্বামী তাদের সকল আবদার পূরণ করবে বলে আশ্বস্ত করেও রেহাই পায়নি। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই। আসামিদের ফাঁসি চাই।

নিহতের বোন মর্জিনা বেগম বলেন, আমার ভাইয়ের জানাজায় অংশগ্রহণ করতে না আসার জন্য মসজিদে মাইকিং করে হুমকি-ধমকি দেয়। আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই।
বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি শফিউল আলম বলেন, আনোয়ার হোসেন গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করেছেন। এতে ২০০ জনের মতো আসামি রয়েছে। এখনো হত্যার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দাখিল হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। আনোয়ার হোসেন মেম্বার হত্যার ঘটনার তার স্ত্রী মোমেনা বেগম বাদী হয়ে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে বাঙ্গরা বাজার থানা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।