গাজীপুরে সুটকেস ও বস্তাবন্দি মরদেহ, প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ৩

ফন্ট সাইজ:

গাজীপুরে ডোবার পানিতে সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তায় ভাসমান খণ্ডিত নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পিবিআই। নিহতের পরিচয় শনাক্ত, তিনজনকে গ্রেপ্তার ও উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত বঁটি, নিহতের এনআইডি কার্ড, মোবাইল ফোন ও জুতা। সোমবার সকালে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জানান গাজীপুর পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার। তিনি বলেন, গত ১১ই সেপ্টেম্বর জেলার সদর উপজেলার ভবানীপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে খালের পানিতে পাওয়া যায় সুটকেস ও প্লাস্টিকের বস্তা। এর ভেতর ছিল এক নারীর খণ্ডিত ও অর্ধগলিত মরদেহ। অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার হওয়া ওই নারীর পরিচয় ও হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করে পিবিআই। তদন্তে শনাক্ত হয় নিহতের পরিচয়। পোশাককর্মী ৩০ বছর বয়সী ডলি আক্তার বানিয়ারচালা এলাকায় ভাড়া বাসায় একাই থাকতেন। কাজ করতেন স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায়।

পিবিআই বলছে, ডলির সঙ্গে মিশন ইসলামের প্রায় ৫ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৮ই সেপ্টেম্বর রাতে মিশনের ভাড়া বাসায় যান ডলি। সেখানে মিশন, তার মা বানু আক্তার ও ডলি একসঙ্গে খাবার খান।
পরে বানু পাশের কক্ষে গেলে ডলিকে ঘুমের ও অ্যালার্জির ওষুধ খাওয়ায় মিশন। পিবিআইয়ের দাবি, ডলি ঘুমিয়ে পড়ার পর রাত আনুমানিক দুইটার দিকে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরদিন মরদেহ গুম করতে স্যুটকেস কেনে মিশন। মরদেহ স্যুটকেসে না ধরায় বঁটি ও ব্লেড দিয়ে কোমর থেকে দ্বিখণ্ডিত করা হয়। এক অংশ স্যুটকেসে এবং অন্য অংশ প্লাস্টিকে মুড়িয়ে বস্তায় রাখা হয়। পরে বন্ধু মিজানুর রহমান মিল্টনের সহায়তায় স্যুটকেস ও বস্তা অটোরিকশায় করে ভবানীপুর এলাকায় নিয়ে খালের পানিতে ফেলে দেয়া হয়। দীর্ঘদিন পরকীয়া সম্পর্কে থাকলে বিয়ে করতে রাজি হয়নি মিশন।

এ নিয়ে তিক্ততা ও মনস্তাত্ত্বিক কারণে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই সোহেল বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে গত ১২ই সেপ্টেম্বর মিজানুর রহমান মিল্টন, মিশন ইসলাম ও তার মা বানু আক্তারকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। মিশনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় হত্যায় ব্যবহৃত বঁটি দা, স্কচটেপের অবশিষ্টাংশ, ডলির এনআইডি কার্ড, মোবাইল ফোন ও জুতা। গ্রেপ্তারের পর তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে দাবি তদন্ত সংস্থার।