বকশীগঞ্জে ১১০টি বিদ্যালয়ের ৭০টিতেই নেই প্রধান শিক্ষক

ফন্ট সাইজ:

জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলায় ৭০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। ফলে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বে থাকা শিক্ষকদের দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে করে একদিকে যেমন প্রশাসনিক কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে শ্রেণিকক্ষের পাঠদানেও দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। বকশীগঞ্জ উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, উপজেলার মোট ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ৪০ বিদ্যালয়ে নিয়মিত প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। বাকি ৭০টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫০টি বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ২১টি বিদ্যালয় চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষক না থাকায় বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। উপজেলার একাধিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই উপজেলা শিক্ষা অফিস, বিভিন্ন সভা, সরকারি কাগজপত্র ও অনলাইনের কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতে হয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের পাঠদান আগের মতো নিয়মিত করা সম্ভব হয় না।
সরজমিন বাঘাডুবা উমেদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেরুর চর তমিজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতানিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেক সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকায় নির্ধারিত ক্লাস অন্য শিক্ষকরা নিয়ে থাকেন, আবার কোনো কোনো সময় ক্লাস ফাঁকা থাকে।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, এ উপজেলার ১১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে বিগত ২০২৩ সালে সারা দেশের ন্যায় ধারাবাহিকভাবে ৫৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে। এদিকে, উপজেলায় ১১০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটিতেও ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়নি। ম্যানেজিং কমিটি গঠন না করার বিষয়ে বকশীগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানিয়েছেন, ৫৮টি বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের কাজ চলমান রয়েছে।