ভুতুড়ে বিলে নাকাল শান্তিগঞ্জ

ভুতুড়ে বিলে নাকাল শান্তিগঞ্জ

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ঘনঘন লোডশেডিং ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। একদিকে প্রচণ্ড গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অন্যদিকে অনেক গ্রাহকের হাতে আসছে অস্বাভাবিক ও ‘ভুতুড়ে’ বিলের কাগজ। এতে গ্রাহকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভ। সরজমিন জানা গেছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক লোডশেডিং হচ্ছে। দিনে ১০ থেকে ১২ বার পর্যন্ত বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা। সবমিলিয়ে অনেক এলাকায় দিনে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে না। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন বড় বাজারেও এর প্রভাব পড়েছে।

এ ছাড়া, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় লোডশেডিংয়ে রোগীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। অন্যদিকে, অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। কয়েকজন গ্রাহক অভিযোগ করেছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় হঠাৎ কয়েকগুণ বেশি বিল এসেছে তাদের। শান্তিগঞ্জের বীরগাঁও গ্রামের গণমাধ্যমকর্মী উসমান গণি বলেন, আমার বাড়িতে একটি ফ্যান ও দু’টি লাইট ব্যবহার করি। সব সময় আমার বিদ্যুৎ বিল এক হাজার টাকার মধ্যে থাকে। কিন্তু এবার সেই বিলই ছয় হাজার টাকা দিয়ে পরিশোধ করেছি। জয়কলস গ্রামের অটোরিকশাচালক সামসুল হক বলেন, গত কয়েক মাস ধরে বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত বিল আসছে। আগে প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা বিল দিতাম। কিন্তু এবার সবকিছু ছাড়িয়ে প্রায় সাড়ে ১২ হাজার টাকা। লোডশেডিংয়ের বিষয়ে শান্তিগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাব-জোনাল অফিসের এজিএম রাসেল আহমদ বলেন, জ্বালানি সংকট, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন কমে যাওয়া এবং চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, পুরো উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট। কিন্তু আমরা পাচ্ছি মাত্র ২ দশমিক ৫ মেগাওয়াট।

তবে ‘ভুতুড়ে’ ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের বিষয়ে তিনি বলেন, এমন কোথাও হচ্ছে না। আর যদি হয়ে থাকে এই নির্দিষ্ট গ্রাহককে অফিসে এসে অভিযোগ করতে হবে। সুনামগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাজমুল হক বলেন, এটা একটা ন্যাশনাল ক্রাইসিস। দেশের দুইটা পাওয়ার প্লান্টের উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকে চলছে। সরকারের দিকনির্দেশনা হলো— মানুষকে সৌর বিদ্যুতের দিকে ধাবিত হতে হবে।