নতুন ভবন নির্মাণে স্থবিরতা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্স

নতুন ভবন নির্মাণে স্থবিরতা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে শঙ্কা

ফন্ট সাইজ:

১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও অর্থ বরাদ্দ মিললেও নানা জটিলতায় প্রকল্পটি আটকে রয়েছে। প্রস্তাবিত জায়গায় সরকারি একটি দপ্তরের পুরাতন ভবন অপসারণ না করায় নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সময়মতো কাজ শুরু না হলে প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উদ্ভূত এই স্থবিরতা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রীর কাছে আধাসরকারিপত্র (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।

ডিও লেটারে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সদর উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের ভবনটি জরাজীর্ণ ও অপ্রতুল হয়ে পড়ায় জনসেবা প্রদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে নতুন ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হলেও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) একটি স্থাপনা অপসারণ সংক্রান্ত জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ শুরু করা যাচ্ছে না। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সদর উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন করে। ১৮ কোটি ১ লাখ ৪৮ হাজার টাকা ব্যয়ে আটতলা ভিতবিশিষ্ট ছয়তলা এই ভবন নির্মাণের জন্য প্রাথমিক সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ইতিমধ্যে পত্রিকায় দরপত্রও আহ্বান করা হয়েছে। তবে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিআরডিবি’র পুরাতন ভবনটি। উপজেলা পরিষদের জমিতে অবস্থিত এই ভবনটি অপসারণের নির্দেশ দেয়া হলেও তা মানা হচ্ছে না। উল্টো গত ১৯শে আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করেছেন সদর উপজেলা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির (ইউসিসিএ) সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন। ইউসিসিএ’র সভাপতি মো. আওলাদ হোসেন দাবি করেন, উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় প্রথমে অফিসার্স ক্লাবের জায়গায় নতুন ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত হলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়। আগের প্রস্তাবিত জায়গায় ভবন হলে বিআরডিবি, পল্লী সঞ্চয়ী ব্যাংক কার্যালয় এবং গুদাম অপসারণ করতে হবে না এমন যুক্তিতে তিনি রিট করেছেন।

অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৮ সালের ১৩ই জুলাই ভূমি প্রশাসন উপজেলা পরিষদের অনুকূলে রেকর্ডীয় দেড় বিঘা জমি বরাদ্দ দেয়। পরবর্তী সময়ে সেখানে বিআরডিবি, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের গুদাম নির্মাণ করা হয়। প্রস্তাবিত নতুন ভবনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় কক্ষ বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত রয়েছে। অন্যান্য দপ্তর স্থাপনা সরাতে সম্মতি জানালেও বিআরডিবি তাদের একতলা ভবনটি অপসারণ করছে না। এ বিষয়ে গত ৫ই মার্চ বিআরডিবি’র মহাপরিচালক ড. সরদার মো. কেরামত আলী জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো এক পত্রে জানান, ২০১৫ সালের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিআরডিবি’র স্থাপনা উচ্ছেদে পূর্বানুমোদন এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের মাধ্যমে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির কথা রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন বলেন, ‘ইউসিসিএ-কে জমি ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হলেও শর্ত ছিল মালিকানা হস্তান্তর করা যাবে না এবং নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। প্রস্তাবিত জায়গাটি সম্পূর্ণভাবে উপজেলা পরিষদের নামে রেকর্ডভুক্ত। চলতি বছরের ৩রা ফেব্রুয়ারি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সভায় নতুন ভবনের গ্রাউন্ড ফ্লোরের লে-আউট, হলরুমের নকশা ও মাস্টারপ্ল্যান উপস্থাপন করেন উপজেলা প্রকৌশলী রইসুল আরেফীন। এরপর জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা স্থান পরিদর্শন করে প্রস্তুতি নেন এবং প্রয়োজনীয় সমীক্ষা শেষে প্রতিবেদন প্রকল্প পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম স্বাক্ষরিত চিঠিতে ভবনটির অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। পরে ১৭ই ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার চিঠি দেন।

সদর উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আলী আজম জানান, ২০২৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই প্রকল্পের মেয়াদ রয়েছে এবং চুক্তি অনুযায়ী ৫৪০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রস্তাবিত জায়গা থেকে পুরনো স্থাপনা অপসারণ না করা হলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়বেন সেবাগ্রহীতারা। এদিকে, এই স্থবিরতা নিরসনের উপায় চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি অবহিত করেছেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা। জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে— এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।