মণিপুর চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নারায়ণ নাইডুকে মারধরের ঘটনায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে চা শ্রমিকরা। এ সময় বাগান ব্যবস্থাপকের অপসারণের দাবিতে ম্যানেজারের বাংলোতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে শ্রমিকরা। শনিবার রাত ও রোববার সকালে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে তারা। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে শ্রমিকরা বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মণিপুর চা বাগানের আবাসিক ডাক্তার আব্দুল বাসিতের ভুল চিকিৎসায় তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। চলতি বছরের এপ্রিল, মে, জুন মাসে ওই ৩ জন শ্রমিক মারা যায়। এ ঘটনায় ডাক্তার আব্দুল বাসিতের অবহেলা ও অপচিকিৎসার প্রমাণ পেলে বাগান কর্তৃপক্ষ ডাক্তার বাসিতকে বাগান থেকে বহিষ্কার করে। বিষয়টির জন্য আব্দুল বাসিত পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতিকে দায়ী করেন।
এ নিয়ে সারকারখানা বাজারের মমতাজ ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী ফেঞ্চুগঞ্জের নুরপুর গ্রামের ফুয়াদ হোসেনের সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি নারায়ণ নাইডুর । এর জের ধরে শনিবার রাতে নারায়ণ নাইডুকে সারকারখানা বাজারে মারধর করা হয়। এ খবর চা বাগানে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা লাঠিসোটা নিয়ে বাজারে ছুটে আসে। রোববার সকালে এ ঘটনায় চা বাগান ম্যানেজার আরিফুল ইসলামকে দায়ী করে বাগানের কয়েক হাজার শ্রমিক কর্মবিরতি পালন করে বাগানের ভেতরেই বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের আগমনের খবর পেয়ে বাংলোতে থাকা বাগানের উভয় ম্যানেজার তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে দ্রুত সরে গেলে হামলা থেকে রক্ষা পান তারা। চা বাগানে হামলা, ভাঙচুরের খবর পেয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মনিপুর চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নারায়ণ নাইডু জানান, একটি চা বাগানের অভিভাবক হচ্ছে মালিকের পরেই বাগান ম্যানেজার। ডাক্তার আব্দুল বাসিতকে বহিষ্কারের ঘটনায় সে তার উপর ক্ষুব্ধ ছিল। ডাক্তার আব্দুল বাসিত ফুয়াদকে দিয়ে আমাকে শায়েস্তা করার জন্য টাকা পাবে বলে অভিযোগ তোলে।
মনিপুর চা বাগানে সিনিয়র ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলাম জানান, শ্রমিক নেতা নারায়ণ নাইডু বাইরের একটি বিয়য় নিয়ে আমার কাছে এসেছিল তাছাড়া তাদের মধ্যে আর্থিক কোনো লেনদেন হলে তা দেখার বিষয় আমার নয়, তাই আমি তাকে বলেছি অন্য কোনো বিয়ষ হলে বলো আমি তোমাকে সাহায্য করবো। বাগান ব্যবস্থাপন জানান, রোববার তার বাংলো এবং বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক মো. আসাদুল ইসলামের বাংলোতে উত্তেজিত চা শ্রমিকরা ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে। পরিবারের লোকজন নিয়ে কোনোমতে তারা বাংলো থেকে সরে যাওয়ায় প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বলে তিনি জানান। ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, মনিপুর চা বাগানের পরিস্থিতি এখন শান্ত, বাগান মালিক এবং শ্রমিকদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দেয়া হবে থানায়। অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
