বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের কথা একটি কৌশল মাত্র। রাকিবের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ ওই চক্রের মূল টার্গেটই ছিল দুই শিল্পীকে নৌকায় ধর্ষণ করা। তাই তো তারা প্রতিকূল আবহাওয়ায়ও গাড়ি বাদ দিয়ে নৌপথে পাড়ি দিয়েছে। পরে মাঝনদে নৌকা থামিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে দুই নৃত্যশিল্পীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার গভীররাতে পুলিশ নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বুড্ডা গ্রাম থেকে মামলার অন্যতম আসামি শান্ত বিশ্বাস (১৯) কে গ্রেপ্তার করে। শনিবার শান্তকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ, মামলার এজাহার ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমিল্লার চান্দিনার এক তরুণ (১৯) নৃত্যশিল্পীর সঙ্গে পরিচয় হয় সরাইলের শাহবাজপুর গ্রামের রাকিব মিয়ার (২২)। মুঠোফোনের মাধ্যমে ওই তরুণসহ তিন শিল্পীর সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশনের জন্য ৯ হাজার টাকায় চুক্তি হয়। এরা তিনজনই পেশাদার শিল্পী। চুক্তির ভিত্তিতে তারা দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় গিয়ে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক ও বিয়েশাদীর অনুষ্ঠানে নৃত্য পরিবেশন করে আসছেন। রাকিব মুঠোফোনে তাদের অগ্রিম ২ হাজার টাকা প্রদান করে। কুমিল্লা থেকে আসার পরিবহন ও সড়কও বলে দেয়। গত বৃহস্পতিবার বিকালে রাকিব মিয়া আরও দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে সরাইলের বিশ্বরোডে তাদের জন্য অপেক্ষা করে। সাড়ে তিনটার দিকে চান্দিনা থেকে ওই তরুণ (১৬), এক কিশোরী (১৯) ও এক তরুণীকে নিয়ে বিশ্বরোড মোড়ে পৌঁছায়। নৃত্য পরিবেশন তাদের একটি কৌশল মাত্র।
ওই চক্রের মূল টার্গেট ধর্ষণ করা। তাই তারা তিন যুবক একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শিল্পীদের শাহবাজপুর তিতাস নদের ব্রিজের কাছে নিয়ে যায়। পরে রাকিব সহ ওই পাঁচ যুবক দেশীয় অস্ত্রের মুখে তরুণকে জিম্মি করে। মারধর, ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই শিল্পীকে নৌকার ভেতরে তারা পালাক্রমে ধর্ষণ করে। বিকাল ৫টা থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত চলে পাশবিকতার তাণ্ডব। পরে নদে-হাওরে ঘুরে-ফিরে নাসিরনগরের গোকর্ণ এলাকায় নিয়ে শিল্পীদের নামিয়ে দেয়। ভুক্তভোগীরা বাদী হয়ে সরাইল থানায় এ ঘটনায় ৫ যুবককে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। গত শুক্রবার গভীররাতে সরাইল থানা পুলিশের একটি দল বুড্ডা গ্রামে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত শান্ত বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে। শান্তকে শনিবারে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। গ্রেপ্তারকৃত আসামি শান্ত জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বাকিদের শনাক্ত করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত আছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সকল আসামিকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবো।
