যুগশ্রেষ্ঠ আলেম হযরত মাওলানা হাফেজ আহমদ প্রকাশ শাহ্ সাহেব কেবলা চুনতী (রহ.) প্রবর্তিত ১৯ দিনব্যাপী ৫৬তম আন্তর্জাতিক মাহফিলে সিরাতুন্নবী (সা.) এর সমাপনী দিবস শনিবার ও রোববার দিবাগত শেষ রাত ফজরের নামাজের আগেই আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে সমাপ্তি হয়। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া চুনতীস্থ শাহ্ মনজিল সিরাত ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মাহফিল মোতাওয়াল্লি কমিটির সভাপতি আলহাজ মাওলানা হাফিজুল ইসলাম আবুল কালাম আজাদ, সাহারবিল আনোয়ারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ মাওলানা রুহুল কুদ্দুস আনোয়ারী, আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. মাওলানা আবু বকর রফিক আহমদ, চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ আলহাজ মাওলানা মাহমুদুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেনÑ চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী।
চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক হোসাইনের সঞ্চালনায় এ সময় মাহফিল মোতাওয়াল্লি কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাদা মাওলানা আব্দুল মালেক মুহাম্মদ ইবনে দিনার নাজাত সমাপনী বক্তব্যে ১৯ দিনব্যাপী আয়োজনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও সফল সমাপ্তির বিভিন্ন দিক তুলে ধরে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সিরাতের এই ঐতিহাসিক আয়োজনকে আরও বিস্তৃত ও সুসংগঠিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং দরসে হাদিসে ‘হযরত মুআজ (রা.)কে প্রদত্ত রাসূল (সা.) এর ১০টি অসিয়ত’ বিষয়ে আলোচনা করেন বান্দরবান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব আলহাজ মাওলানা আলা উদ্দিন ইমামী। ‘বিদায় হজে রাসূল (সা.) এর প্রদত্ত ভাষণের গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ বিষয়ে আলোচনা করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা আলহাজ ড. মাওলানা আ.ফ.ম খালেদ হোসাইন। ‘ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা’ বিষয়ে আলোচনা করেন আন্তর্জাতিক ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাওলানা বি.এম. মুফিজুর রহমান আজহারী।
শান্তির সমাজ প্রতিষ্ঠায় মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ (সা.)’ বিষয়ে আলোচনা করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের প্রফেসর ড. মাওলানা আ.ক.ম আবদুল কাদের। ‘ইসলামের দৃষ্টিতে ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা এবং অনৈক্যের কারণ ও পরিণতি’ বিষয়ে আলোচনা করেন ঢাকার মুফতি মাওলানা আলী হাসান ওসামা। এ ছাড়া, ‘ইসলামের শ্রেষ্ঠত্বের প্রামাণ্য’, ‘কামিল মুরশিদের পরিচয় ও গুণাবলী’, ‘আল-কোরআন ও বিজ্ঞান’, ইবাদত ও নামাজের গুরুত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন দেশের বিশিষ্ট আলেম ও ইসলামি চিন্তাবিদরা। বক্তারা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনাদর্শ অনুসরণেই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে শান্তি, ন্যায়, ঐক্য ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব। ইসলাম শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের নাম নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। বিদায় হজের ভাষণে রাসূল (সা.) যে মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও ঐক্যের শিক্ষা দিয়েছেন, তা অনুসরণ করলেই বর্তমান সমাজের বিভাজন, অশান্তি ও নৈতিক অবক্ষয় দূর করা সম্ভব। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেনÑ মাহফিল মোতাওয়াল্লি কমিটির সদস্য আলহাজ আবু তাহের, আলহাজ ইসমাইল মানিক, অধ্যক্ষ আলহাজ মাওলানা হাফিজুল হক নিজামী, আলহাজ মোহাম্মদ ইদ্রিস মিনহাজ।
শাহজাদা তৈয়বুল হক বেদার, প্রফেসর জাহেদুর রহমান, নাঈমউদ্দিন নিমু, কাজী আরিফুল ইসলাম, সাংবাদিক সোহেল তাজসহ বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। মুহাম্মদ জমির উদ্দিন, মুহাম্মদ হাবিব উল্লাহ নিজামী, ক্বারী মুহাম্মদ শোয়াইব ও মুহাম্মদ শোয়াইব কোরআন তিলাওয়াত করেন। জুলকারনাইন মোহাম্মদ ফাহিম, আল আকিব মুহাম্মদ নাজমুস সাকিব, শায়ের নুরুল কিবরিয়া সাকিব দিলকশ চাটগামী, আব্দুল্লাহ আল জাওয়াহিরি জুলফিক ও মাওলানা ইমাম বায়হাকী ইতমাম না’আতে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন।
