রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলমের ঘুষ বাণিজ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার তার ঘুষ নেয়ার ওই গোপন ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে, পরে তা ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম তার চেয়ারে বসে একজন প্রবাসীর নতুন ভোটার আইডি করে দেয়ার কথা বলে ঘুষের টাকা গ্রহণ করছেন। মুহূর্তের মধ্যে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনা ঝড় ওঠে। ভুক্তভোগী রাসেল মোল্লা জানান, আমি বাহরাইন প্রবাসী। ছুটিতে বাড়িতে এসেছি। পূর্বে আমার কোনো ভোটার আইডি ছিল না। আমি ২০১৩ সালে জন্ম নিবন্ধন দিয়ে পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশ গিয়েছি। ঘটনার দিন আমি নতুন ভোটার আইডি কার্ড করার জন্য উপজেলা নির্বাচন অফিসে গেলে নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম আমার কাছে ৫০০০ টাকা ঘুষ দাবি করেন। আমি তাকে বহু আকুতি-মিনতি করে ২০০০ টাকা দেই।
রাসেল মোল্লা আরও বলেন, আমি ব্রেন টিউমারে অসুস্থ ছিলাম। এ কথা নির্বাচন কর্মকর্তাকে বারবার বলার পরও, তিনি নানা অজুুহাতে আমাকে তিন-চার দিন ঘুরিয়েছেন। পরে আমি টাকা দিতে রাজি হলে তিনি আমার ভোটার আইডি করে দেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করে বলেন, শুধু আমি নই, আমার মতো অনেক মানুষ নির্বাচন অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবা পান না। এই অফিসের প্রত্যেকটা লোক টাকা খায়। এদিকে, ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর থেকে গোয়ালন্দ নির্বাচন অফিসে, বছরের পর বছর ধরে চলা নানা অনিয়ম, অপকর্ম ও ঘুষ বাণিজ্য নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেছেন ভুক্তভোগী অনেকেই। এ সময় ভুক্তভোগীরা নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম সহ এই অফিসে ঘুষ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে শাস্তির দাবি জানান। এ বিষয়ে নির্বাচন কর্মকর্তা খবিরুল আলম বলেন, আমার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে, আমি কোনো মন্তব্য করতে পারবো না। এ নিয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল হুদা বলেন, আমি নির্বাচন অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বিষয়টা জানিয়েছি। তিনি খবিরুল আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। রাজবাড়ী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ জালাল উদ্দীন বলেন, ঘুষ নেয়ার বিষয়টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে আমরা অবগত হয়েছি। খবিরুল আলমের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
