নেত্রকোণার কেন্দুয়া পৌর শহরে মরা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তোলপাড় চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর নড়েচড়ে বসেছে উপজেলা প্রশাসন। গতকাল মাটির নিচে পুঁতে রাখা আলোচিত মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়। নমুনা ল্যাবে পরীক্ষার পরই মাংসটির প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সনাটি ইউনিয়নের আকালপাড়া গ্রামের প্রবাস চন্দ্র সূত্রধরের একটি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে গরুটিকে গোয়ালঘরে জবাই করে এক দালালের মাধ্যমে কেন্দুয়া পৌর শহরের মাংস ব্যবসায়ী আরাধনের কাছে বিক্রি করা হয়। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে কেন্দুয়া ও গৌরীপুরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
অভিযোগের বিষয়ে আরাধন এক সংবাদ সম্মেলনে মাংস কেনার কথা স্বীকার করেন। তার দাবি, এক দালালের মাধ্যমে তিনি আলোচিত গরুর প্রায় ৫০ কেজি মাংস ৬ হাজার টাকায় কিনেছিলেন। পরে গরুটি মারা যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে মাংস মাটিতে পুঁতে রাখেন। এরপর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে মাটির নিচ থেকে মাংস তুলে দেখানো হয়। সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মাংসের প্রকৃত অবস্থা ও সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয়দের কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, দীর্ঘ সময় মাটির নিচে থাকার পরও মাংসটি কীভাবে এমন অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাও।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মতিউর রহমান বলেন, ২রা সেপ্টেম্বরের ঘটনা হিসেবে ১২ই সেপ্টেম্বর মাটির নিচ থেকে মাংস উত্তোলন করা হলে সাধারণত সেটি আরও পচে যাওয়ার কথা। মাংসের রং ও অবস্থা দেখে কিছুটা সংশয় তৈরি হয়েছে। মাংসটি আগে ফ্রিজিং করা হয়েছিল কিনা- সেটিও পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা মাংসের নমুনা সংগ্রহ করেছি। তা ল্যাবে পাঠানো হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই মাংসের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
