পাবনা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছেন জেলার সাংবাদিকরা। ডিবি কার্যালয়ে এক তরুণীকে ব্যবহার করে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাজানো বক্তব্যের ভিডিও ধারণ এবং তা ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলামকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।
রোববার সকাল ১১টায় পাবনা প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে শহরের প্রধান সড়ক আব্দুল হামিদ রোডে আয়োজিত মানববন্ধন থেকে এ আল্টিমেটাম দেয়া হয়। পরে সাংবাদিক নেতারা পাবনা জেলা প্রশাসক ও পাবনা পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন। মানববন্ধনে সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, ডিবি কার্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ ও নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থানে একজন নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বা জিম্মি করে একজন সাংবাদিক নেতার বিরুদ্ধে সাজানো বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে জহুরুল ইসলামের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়। বক্তারা বলেন, একজন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও সাজানো তথ্য প্রচার শুধু ব্যক্তিগতভাবে তাকে হেয় করার ঘটনা নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপরও আঘাত। এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে পাবনা প্রেস ক্লাব সভাপতি আখতারুজ্জামান আখতার, সাবেক সম্পাদক আব্দুল মতীন খান, সাবেক সভাপতি ও এনটিভি-সমকালের স্টাফ রিপোর্টার এবিএম ফজলুর রহমান, সাবেক সম্পাদক ও মাছরাঙা টেলিভিশনের উত্তরাঞ্চলীয় ব্যুরো চিফ উৎপল মির্জা, একুশে টিভি ও দৈনিক মানবজমিনের স্টাফ রিপোর্টার রাজিউর রহমান রুমী, বাংলাদেশ টুডের প্রতিনিধি আব্দুল হামিদ খান, জিকে সাদী, আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার, প্রথম আলোর প্রতিনিধি সরোয়ার মোর্শেদ উল্লাস, আলোকিত বাংলাদেশের প্রতিনিধি কাজী বাবলা, এটিএন নিউজ ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি রিজভী জয়, ক্যামেরা জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন পাবনার সভাপতি জিয়াউল হক রিপন, বাংলাদেশ পুস্তক বিক্রেতা সমিতি পাবনার সভাপতি আব্দুল মজিদসহ সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন। এ সময় প্রায় শতাধিক সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সমপ্রতি সাংবাদিক নামধারী একটি কুচক্রী মহল পাবনা প্রেস ক্লাবের নামের সঙ্গে সাদৃশ্য রেখে পৃথক সংগঠন গড়ে তুলেছে। ওই মহলের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, জমি দখল, ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে মূলধারার সংবাদকর্মীরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর জেরে ক্ষুব্ধ হয়ে ওই চক্রটি কতিপয় অসাধু রাজনৈতিক নেতা ও পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় এক তরুণীকে ব্যবহার করে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাজানো ঘটনার অবতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক নেতারা।
এর আগে শনিবার নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে নাফিসা নামে ওই তরুণী অভিযোগ করেন, সুবর্ণা হালিম নামে এক নারীনেত্রী তাকে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করেন। পরে তাকে পাবনা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মা-বাবার উপস্থিতিতে সোহেল রানা বিপ্লব নামে এক কথিত সাংবাদিক ওই বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। নাফিসা আরও জানান, জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে দেয়া লিখিত অভিযোগও তিনি ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল এবং কীভাবে সেটি ধারণ ও প্রচার করা হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
মানববন্ধন শেষে ডিবি’র ওসি রাশেদুল ইসলামকে প্রত্যাহার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে পাবনা পুলিশ সুপার আবু আশরাফের কাছে স্মারকলিপি দেন সাংবাদিক নেতারা। স্মারকলিপির অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি), রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ও পাবনা জেলা প্রশাসকের কাছে দেয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পাবনা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘ভিকটিম পরিবার আতঙ্কিত হয়ে আমাদের কাছে সহায়তা চেয়েছিল। তাদের উদ্ধার করে আমাদের হেফাজতে এনেছিলাম আইনগত সহায়তা দেয়ার জন্য। সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে কেউ হয়তো ভিডিও করেছে।’ পাবনার পুলিশ সুপার আবু আশরাফ বলেন, ‘বিষয়টি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার পর ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন পাবনার সাংবাদিকরা। তাদের দাবি-তদন্তে ডিবি কার্যালয়ে ভিডিও ধারণের প্রকৃত ঘটনা, কার নির্দেশে তরুণীকে সেখানে নেয়া হয়েছিল এবং ভিডিওটি কীভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে-এসব বিষয় স্পষ্ট করতে হবে।
