রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার আখিরা নদীর সংরক্ষণ কাজে ব্যবহারকৃত ব্লকগুলো দেবে ধসে পড়ছে। শত শত বাড়ি ভাঙনের কবলে। ভাঙন ঠেকাতে জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এলাকাবাসীর অভিযোগ- নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী, দুর্বল মনিটরিং এবং যথাযথ ডাম্পিং ছাড়া বৃষ্টির মধ্যে ব্লক বসানোর কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকল্প শুরুর পর থেকেই কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন সবার মধ্যে। পীরগঞ্জের বালুয়াহাট থেকে চতরাহাট পর্যন্ত প্রায় ১০ কিলোমিটার জুড়ে আখিরা নদীর দুই ধারে অসংখ্য জায়গায় এই বাঁধের ব্লকগুলো ধসে পড়ে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর পশ্চিম পাড়ের প্রায় ২শ’ মিটার দৈর্ঘ্যে বসানো ব্লক পর পর ২ বার ধসে পড়েছে। এতে নদীর পাড়ে শত শত বাড়ি ভাঙনের মুখে পড়েছে। নদীভর্তি পানি থাকায় ব্লক ডাম্পিং ব্যবস্থা ভালো না হওয়া, মানসম্মত নির্মাণসামগ্রী না থাকা যে কারণে পানিতে ঢলে পড়ছে ব্লক, এবং নদীভাঙনও শুরু হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নদী সংলগ্ন বাড়ির একাধিক ব্যক্তি মানবজমিনকে জানান, জোড়াতালি দিয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে নদীর সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করেছে। বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। ঠিকাদার কাজ শুরু করেছে বর্ষা মৌসুমে। ব্লকের কাজে ওই নদীর বালু মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কিছু কিছু স্থানের ব্লক ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়াও ডাইস মেশানো ইটের খোয়া বেডে বিছিয়ে দেয়া হয়েছে। কোথাও দেড় ইঞ্চি কোথাও আড়াই ইঞ্চির উপর ব্লক বসানোর কারণে ভেঙে ও দেবে যাচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে নদী পাড়ের মানুষ আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই বাঁধের ব্লক ধসে পড়েছে। ৮শ’ মিটার দৈর্ঘ্য ব্লক নির্মাণকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
এ কাজটি রংপুরের হাসিবুর রহমান নামে এক ঠিকাদার পেলেও সেটি বাস্তবায়ন করছে রংপুরের ভরদ প্রসাদ নামে এক ঠিকাদার। তিনি জানান, আমরা কাজটি দেরি করে বর্ষা মৌসুমে শুরু করেছি। যেগুলো সমস্যা হয়েছে সেগুলো আবার ঠিক করে দিতে হবে। কি লেখার আছে লিখতে থাকেন। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হাফিজুল ইসলাম জানান, ওখানকার কাজ দেবে গেছে এজন্য ঠিকাদারকে চিঠি দেয়া হয়েছে। ঠিকাদার ঠিক করে দেবে।
