জাল স্বাক্ষরে রিপোর্ট দিচ্ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার

জাল স্বাক্ষরে রিপোর্ট দিচ্ছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ফন্ট সাইজ:

মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা বাজারে অবস্থিত ডা. লুৎফর রহমান ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে চিকিৎসকের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে ডা. মো. রিজুয়ান বিশ্বাস (বিএমডিসি রেজিস্ট্রেশন নং-এ-৮৯৪৭৭) এর জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে এমনভাবে রিপোর্ট দেয়া হলেও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি কোনো ব্যবস্থা। জানা গেছে ডা. মো. রিজুয়ান বিশ্বাসের সম্মতিতেই এমন কাজ চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বিষয়টিকে অপরাধ বলছেন স্বাস্থ্য বিভাগ।

গত কয়েকদিনের অনুসন্ধান ও সরজমিন জানা যায়, ডা. লুৎফর রহমান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রতিদিনই রক্ত, প্রস্রাবের বিভিন্ন প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা করা হয়। এসব রিপোর্টে ল্যাব ইনচার্জ মো. ইমদাদুল হকের পাশাপাশি ডা. রিজুয়ান বিশ্বাসের স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়। অথচ, ডা. রিজুয়ান বিশ্বাস ঝিটকা বাজার গিয়াস উদ্দিন মার্কেটে ডক্টর’স ফার্মেসিতে চেম্বার করেন। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানেই রোগী দেখেন তিনি। তার অনুপস্থিতিতে রিপোর্টে ডা. রিজুয়ান বিশ্বাসের জাল স্বাক্ষর দেন ল্যাব ইনচার্জ মো. ইমদাদুল নিজেই। অনেক সময় স্ক্যান করা স্বাক্ষরও ব্যবহার করা হয়। তবে, এসব কাজ খোদ ডাক্তারের অনুমতিক্রমেই চলছে বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটিতে কর্মরত একজন জানান, ‘রিজুয়ান স্যার এখানে তেমন একটা আসেন না। তার স্বাক্ষর ল্যাব ইনচার্জ ইমদাদুল বসিয়ে দেন। এটা রিজুয়ান স্যারের পারমিশনেই হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে রিজুয়ান স্যারকে একটা অ্যামাউন্ট দেয়া হয় আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে।’

জাহাঙ্গীর নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘স্ত্রীকে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলাম। রক্তের টেস্ট করিয়েছি। আমরা সাধারণ মানুষ, এগুলো বুঝি না। তবে জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করে যদি রিপোর্ট দেয়া হয় বা কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে সেটা দেখার দায়িত্ব তো প্রশাসনের।’ ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে স্বাক্ষর জাল করে রিপোর্ট দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির ল্যাব ইনচার্জ মো. ইমদাদুল হক বলেন, ‘উনি (ডা. মো. রিজুয়ান বিশ্বাস) তো এখানে আসে। মাঝে মাঝে আসে।’ স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকার করেন তিনি। বক্তব্যের জন্য একাধিকবার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গিয়ে মালিক আক্তারুজ্জামানকে (বাবুল) পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে তিনি বলেন, স্বাক্ষর ডা. রিজুয়ানই দেন। আমার এখানে ৩-৪ জন মেয়ে আছে। তারা রিপোর্ট নিয়ে গিয়ে ডা. রিজুয়ানের কাছে থেকে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়ে আসেন। ডা. রিজুয়ানও মাঝে মাঝে আমাদের এখানে আসেন।

আমাদের সব কাগজপত্র ঠিক আছে। চারদিকে কতো অনিয়ম হচ্ছে, তা আপনারা দেখছেন না। এ বিষয়ে ডা. মো. রিজুয়ান বিশ্বাস বলেন, আমি মাঝে মাঝে ওখানে যাই। ওদের ওখান থেকে মাঝে মাঝে স্বাক্ষর নিতে আমার কাছে আসে। তবে, আমার স্বাক্ষর তো ওরা জাল করে দিতে পারে না। এটা তো অন্যায়। আমি বিষয়টি নিয়ে ওদের সঙ্গে কথা বলবো। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কাজী এ কে এম রাসেল বলেন, রিপোর্টে স্বাক্ষর করতে গেলে চিকিৎসককে অবশ্যই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উপস্থিত থাকতে হবে। চিকিৎসক আগে থেকে কাগজে স্বাক্ষর করে আসলেন, সেগুলোতে পরে রিপোর্ট প্রিন্ট করা হলো অথবা তার স্বাক্ষর স্ক্যান করে বা অন্য কেউ দিয়ে দিলে এটা দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা খুব দ্রুতই ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অভিযান পরিচালনা করবো।