জাবি মেডিকেলে ‘ভুল’ রিপোর্ট

জাবি মেডিকেলে ‘ভুল’ রিপোর্ট

ফন্ট সাইজ:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ‘ভুল’ মেডিকেল রিপোর্ট দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদ শেখের অভিযোগ, জাবি মেডিকেলের রিপোর্টে তার হিমোগ্লোবিন ১৫ দশমিক ৭ দেখানো হলেও পরদিন ইবনে সিনায় পরীক্ষায় তা পাওয়া যায় ৮ দশমিক ৮। থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে ওষুধ বন্ধ করলে জীবনঝুঁকি তৈরি হতে পারতো বলে দাবি তার।
রাশেদ জানান, গত ১১ই আগস্ট নিয়মিত সিবিসি পরীক্ষা করতে জাবি মেডিকেলে নমুনা দেন। ১৩ই আগস্ট রিপোর্ট হাতে পান। সেখানে হিমোগ্লোবিন ১৫ দশমিক ৭ দেখানো হয়।

সন্দেহ হওয়ায় পরদিন ইবনে সিনায় পরীক্ষা করালে হিমোগ্লোবিন আসে ৮ দশমিক ৮। তিনি বলেন, গত ১০ বছরেও আমার হিমোগ্লোবিন ১০-১১ এর ওপরে ওঠেনি। অথচ জাবি মেডিকেলের রিপোর্টে ১৫ দশমিক ৭ দেখানো হয়েছে। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা না করিয়ে ওই রিপোর্ট অনুযায়ী ওষুধ বন্ধ করলে হিমোগ্লোবিন ৫-এর নিচে নেমে গিয়ে আমার জীবনঝুঁকি তৈরি হতে পারতো। জাবি মেডিকেল সেন্টারের টেকনিক্যাল অফিসার (প্যাথলজি) নাইমুল ইসলাম নাঈম বলেন, ওই সময় মেশিনে সমস্যা থাকায় কয়েকটি রিপোর্টের ফলাফলে হেরফের হচ্ছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পর মেশিন ঠিক করা হয়েছে এবং প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল।

প্রধান মেডিকেল অফিসার শামসুল আলম খান বলেন, মাদারবোর্ড পরিবর্তনের পর কোয়ালিটি কন্ট্রোলে একটি প্যারামিটারে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে। কয়েকটি পরীক্ষা করার পর মেশিনের সমস্যা শনাক্ত করে তা ঠিক করা হয়। শিক্ষার্থী তখন জানালে নমুনা পুনরায় পরীক্ষা করে দেখা যেতো। মেডিকেল সেন্টারের কর্মকর্তারা ত্রুটির বিষয়টি প্রশাসনকে জানালেও ওই সময়ে পরীক্ষা করা শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানানো হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার সকাল ১১টার দিকে রাশেদের বন্ধু ও সহপাঠীরা জাবি মেডিকেল সেন্টারে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে দুপুর ১টার দিকে তারা তালা খুলে দেন। এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামসুল আলম জানান, ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হবে। ১৫ দিনের মধ্যে ঘটনায় প্রকৃত জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।