দিরাইয়ে হাসপাতালের ব্যাটারি স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বাড়িতে

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আইপিএসের কাজে ব্যবহৃত চারটি ব্যাটারি হাসপাতাল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার ব্যক্তিগত বাসায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও মানবজমিনের হাতে এসেছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত সুব্রত দাস একটি ইজিবাইকে করে হাসপাতালের চারটি ব্যাটারি দিরাই পৌরসভার হারানপুর এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায়ের বাসায় নিয়ে গেছেন। হাসপাতালের সরকারি মালামাল ব্যক্তিগত বাসায় নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, নিরাপত্তার কারণে ব্যাটারিগুলো আপাতত বাড়িতে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে হাসপাতালের কাজে এগুলো ব্যবহার করা হবে।

জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৬ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে চারটি ব্যাটারি, আইপিএসের ইনভার্টারসহ সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে চারটি ব্যাটারির জন্য বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। এরপর ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আইপিএসের জন্য নতুন ব্যাটারি কেনার লক্ষ্যে উপজেলা পরিষদ থেকে আরও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আগের ব্যাটারিগুলোর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন ব্যাটারি কেনা হয়েছে। দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, পূর্বের ব্যাটারিগুলোর কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন শক্তিশালী লিথিয়ামজাত ব্যাটারি ক্রয় করা হয়েছে।

সচেতন লোকজন বলছেন, একজন কর্মকর্তা যদি হাসপাতালের আইপিএসের ব্যাটারি নিজের বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন, তার হাতে সরকারি লাখ লাখ টাকার ওষুধসহ এতকিছু কীভাবে নিরাপদ থাকবে। দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত সুব্রত দেবনাথ বলেন, ‘দেবাশীষ স্যার আমাকে ব্যাটারিগুলো উনার বাড়িতে দিয়ে আসতে বলেছেন। আমি দিয়ে এসেছি। এর বেশি কিছু জানি না। হাসপাতালের আরএমও ডা. প্রশান্ত তালুকদার বলেন, ‘ব্যাটারিগুলো আমার কক্ষেই ছিল। নতুন ব্যাটারি আসার পর আগের ব্যাটারিগুলো কোথায় আছে, স্যার বলতে পারবেন।’

ব্যাটারি ব্যক্তিগত বাসায় রাখার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেবাশীষ রায় বলেন, ‘ব্যাটারি বাড়িতে পাঠিয়েছি যাতে এগুলো মিসইউজ না হয়। হাসপাতালের স্টোররুম পুরনো মালামালে ঠাসা। সেটা গোছানোর কাজ চলছে। এজন্য নিরাপত্তার কারণে বাড়িতে নিয়ে রেখেছি। কাজ শেষ হলে এসব ব্যাটারি এনে হাসপাতালের পাওয়ার সেক্টরের কাজে লাগানো হবে। সুনামগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শেদ বলেন, আমি সম্প্রতি জয়েন করেছি, এ বিষয়ে অবগত নই। খোঁজখবর নিয়ে দেখবেন জানিয়ে সিভিল সার্জন আরও বলেন, সরকারি জিনিস হাসপাতালের গেটের বাইরে নেয়ারই কোনো সুযোগ নেই।