সার সিন্ডিকেট ভাঙতে নজরদারি আরো কঠোর হোক

সার সিন্ডিকেট ভাঙতে নজরদারি আরো কঠোর হোক

ফন্ট সাইজ:

ভোরের আলো তখনও পুরোপুরি ফোটেনি। কুয়াশা কিংবা শিশিরভেজা পথ পেরিয়ে একজন কৃষক ছুটছেন বাজারের দিকে। হাতে হয়তো একটি পুরোনো ব্যাগ, পকেটে কষ্টে জোগাড় করা কিছু টাকা। তাঁর চোখে একটাই প্রত্যাশা—আজ অন্তত প্রয়োজনীয় সারটি পাওয়া যাবে। কারণ মাঠে তাঁর ধানের চারা অপেক্ষা করছে। কয়েক দিন দেরি হলেই উৎপাদনের ওপর তার প্রভাব পড়তে পারে। কিন্তু বাজারে গিয়ে যদি তিনি শুনতে পান, ‘সার নেই’—তাহলে তাঁর কাছে ওই দুটি শব্দের অর্থ অনেক গভীর।

‘সার নেই’ মানে শুধু একটি কৃষি উপকরণ নেই এমন নয়। এর অর্থ হতে পারে একটি মৌসুমের অনিশ্চয়তা, একটি পরিবারের আয়-ব্যয়ের হিসাব এলোমেলো হয়ে যাওয়া, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা চিকিৎসার খরচ নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা। আর যদি সেই সারই গোপনে মজুত রেখে পরে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হয়, তাহলে কৃষকের অসহায়ত্ব রূপ নেয় ক্ষোভে।

বাংলাদেশের কৃষকের জীবন এমনিতেই সহজ নয়। রোদ-বৃষ্টি, বন্যা-খরা, রোগবালাই, উৎপাদন খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং বাজারের অনিশ্চয়তার সঙ্গে প্রতিনিয়ত তাঁকে লড়াই করতে হয়। তবু তিনি মাঠ ছাড়েন না। কারণ তাঁর উৎপাদিত ধান, গম, সবজি কিংবা অন্যান্য ফসলের সঙ্গে শুধু তাঁর নিজের পরিবার নয়—জড়িয়ে আছে কোটি মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা।

এই কৃষক যখন ফসলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি বস্তা সারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেন, দোকানে দোকানে ঘোরেন কিংবা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিতে বাধ্য হন, তখন প্রশ্ন ওঠে—রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি, সরকারি বরাদ্দ ও বিশাল সরবরাহব্যবস্থার সুফল শেষ পর্যন্ত কোথায় যাচ্ছে?

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সার নিয়ে সংকট, ডিলারদের বিরুদ্ধে অনিয়ম এবং কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ যে উদ্বেগ তৈরি করেছে, তা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। কোথাও কৃষকের বিক্ষোভ, কোথাও সড়ক অবরোধ, আবার কোথাও ডিলারের গুদাম থেকে জোর করে সার নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া অবশ্যই গ্রহণযোগ্য নয়। কৃষকের ক্ষোভেরও আইনি সীমা রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রের জন্য আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কেন একজন সাধারণ কৃষক এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছাচ্ছেন, যেখানে তাঁর ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে?

কৃষকের ক্ষোভকে শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে মূল সংকট আড়ালেই থেকে যাবে। কোথায় সার আটকে আছে, কোথায় সরবরাহব্যবস্থায় ঘাটতি, কোথায় অতিরিক্ত মজুত, কোথায় পরিবহণে কারসাজি এবং কোথায় অসাধু ব্যবসায়ীদের যোগসাজশ—এসব চিহ্নিত করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

এই জায়গায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা নিয়ে চালু করা ডেডিকেটেড ‘কন্ট্রোল রুম’ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখার উপসচিব মো. মাকছুদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত অফিস আদেশ অনুযায়ী, মন্ত্রণালয়ের ৫২৮ নম্বর কক্ষে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নজরদারির জন্য গঠন করা হয়েছে ২৭টি তদারকি দল। প্রতিটি দলে রয়েছেন একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা, একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং একজন অফিস সহায়ক। সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দুই শিফটে কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই উদ্যোগটি কার্যকর হলে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি দ্রুত জানা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়বে।তবে এখানেই মূল কাজ শেষ নয়; বরং শুরু।

কন্ট্রোল রুমকে যদি শুধু অভিযোগ গ্রহণের একটি দাপ্তরিক কক্ষ বানানো হয়, তাহলে এর কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন। এটিকে হতে হবে মাঠের সঙ্গে সংযুক্ত একটি কার্যকর ‘স্নায়ুকেন্দ্র’। কোথাও সরবরাহ কমছে, কোথাও অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ছে, কোথাও ডিলারের গুদামে মজুত অস্বাভাবিক—এমন প্রতিটি সংকেত যেন দ্রুত কন্ট্রোল রুমে পৌঁছায় এবং সেখান থেকে মাঠে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অর্থাৎ সংকট তৈরি হওয়ার পর ছুটে গিয়ে আগুন নেভানোর পরিবর্তে সংকট তৈরি হওয়ার আগেই তার লক্ষণ শনাক্ত করতে হবে।

এই কাজে প্রযুক্তি বড় সহায়ক হতে পারে। সরকারি গুদাম থেকে ডিলার পর্যন্ত সার সরবরাহের প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে ট্র্যাক করার ব্যবস্থা করা দরকার। কোন গুদাম থেকে কত টন সার বের হলো, কোন ডিলার কত বরাদ্দ পেলেন, কখন তা তাঁর কাছে পৌঁছাল, তাঁর কাছে বাস্তবে কত মজুত রয়েছে এবং কতটুকু কৃষকের কাছে বিক্রি হলো—এসব তথ্য যদি একটি সমন্বিত ডিজিটাল ড্যাশবোর্ডে থাকে, তাহলে সরবরাহব্যবস্থার অস্বাভাবিকতা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব।

একইভাবে উপজেলা ও ইউনিয়নভিত্তিক চাহিদা-জোগানের তথ্য বিশ্লেষণ করা গেলে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা শুরুতেই ধরা পড়তে পারে। আধুনিক রাষ্ট্রের প্রশাসন এখন শুধু ঘটনার পর তদন্ত করে না; তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সংকট আগেই শনাক্ত করে। সার ব্যবস্থাপনাতেও সেই পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন।

কৃষকের অভিযোগ ব্যবস্থাপনাকে করতে হবে আরও সহজ ও বিশ্বাসযোগ্য। একজন কৃষক যেন ফোন, খুদে বার্তা কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন। কিন্তু অভিযোগ গ্রহণের পর সেটি কোথায় গেল, কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো এবং সমস্যার সমাধান হলো কি না—তারও একটি জবাবদিহিমূলক রেকর্ড থাকতে হবে। কারণ অভিযোগ করার সুযোগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিযোগের প্রতিকার।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সারসংক্রান্ত অভিযোগও দ্রুত যাচাই করা যেতে পারে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি নয়; বরং তথ্য যাচাই করে প্রমাণ পাওয়া গেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট, জরিমানা, ডিলারশিপ বাতিল এবং প্রচলিত আইনে মামলা—যে ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা নিতে হবে দৃশ্যমানভাবে।

কারণ বাজারে নিয়ম ভাঙার মূল্য যদি বাস্তবে দিতে না হয়, তাহলে কোনো পরিপত্র বা সতর্কবার্তাই দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হবে না।

সার-সিন্ডিকেটের আরেকটি দিকও আমাদের মনে রাখতে হবে। একটি সিন্ডিকেট সাধারণত শুধু একজন ডিলারকে নিয়ে তৈরি হয় না। সরবরাহ, পরিবহণ, গুদামজাতকরণ ও খুচরা বিক্রির বিভিন্ন স্তরে অসাধু যোগসূত্র তৈরি হলেই কৃত্রিম সংকটের সুযোগ সৃষ্টি হয়। কোথাও রাজনৈতিক প্রভাব, কোথাও স্থানীয় ক্ষমতার দাপট, আবার কোথাও প্রশাসনের দুর্বলতা বা অসততার সুযোগ নিয়ে এই চক্র শক্তিশালী হতে পারে।

তাই ব্যবস্থা নিতে হলে শুধু শেষ প্রান্তের দোকানদারকে ধরলেই হবে না। পুরো সরবরাহশৃঙ্খল পরীক্ষা করতে হবে।
যে ডিলারের বিরুদ্ধে কালোবাজারি বা মজুতদারির অভিযোগ বারবার প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এমন ব্যবস্থাও করতে হবে, যাতে ডিলারশিপ বাতিলের পর অন্য নামে বা অন্য ব্যক্তিকে সামনে রেখে একই ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকে।

কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি মূলত একটি বাজার ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন হলেও এর প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। সার সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে তার অভিঘাত শুধু কৃষকের জমিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। উৎপাদন কমলে বাজারে সরবরাহ কমে, খাদ্যপণ্যের দামে চাপ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাকেও তার মূল্য দিতে হয়।

অর্থাৎ সারের বাজারে কারসাজি একদিকে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ায়, অন্যদিকে জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তাকেও ঝুঁকিতে ফেলে।

বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে এই ঝুঁকি কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। জলবায়ু পরিবর্তন, আবাদি জমি কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি ও কৃষিশ্রমের ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার মধ্যে খাদ্য উৎপাদন ধরে রাখা নিজেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এর সঙ্গে যদি অভ্যন্তরীণ সরবরাহব্যবস্থায় কৃত্রিম সংকট যোগ হয়, তাহলে কৃষি খাত অপ্রয়োজনীয়ভাবে আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

রাষ্ট্র কৃষিকে সহায়তা দিতে সারের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দেয়। সেই ভর্তুকির মূল লক্ষ্য কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং খাদ্য উৎপাদনকে উৎসাহিত করা। কিন্তু সরকারি অর্থে দেওয়া এই সুবিধা যদি কোনো অসাধু মধ্যস্বত্বভোগীর অতিরিক্ত মুনাফার উৎস হয়ে ওঠে, তাহলে রাষ্ট্রীয় নীতির উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হয়।
তাই এখন প্রয়োজন ‘ভর্তুকি থেকে কৃষকের জমি পর্যন্ত’ পুরো প্রক্রিয়ার জবাবদিহি নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে কৃষককে তথ্যের ক্ষমতা দিতে হবে। তাঁর এলাকার কোন ডিলারের কাছে কখন সার আসবে, সরকারি মূল্য কত, কী পরিমাণ বরাদ্দ হয়েছে—এসব তথ্য যত সহজে তিনি জানতে পারবেন, প্রতারণার সুযোগ তত কমবে। ইউনিয়ন ও বাজার পর্যায়ে দৃশ্যমান তথ্যফলক, ডিজিটাল নোটিশ এবং মোবাইলভিত্তিক তথ্যসেবা চালু করা যেতে পারে।

এখানে কৃষকের প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ। কৃষককে সাহায্যপ্রার্থী হিসেবে নয়, দেশের খাদ্যব্যবস্থার একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখতে হবে। তিনি যে খাদ্য উৎপাদন করেন, তা শুধু তাঁর নিজের পরিবারের জন্য নয়; শহরের শ্রমিক, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী—সবার জীবন তার সঙ্গে যুক্ত।

একজন কৃষকের ফসল ভালো হলে তার সুফল তাঁর ঘরে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর আয় বাড়লে স্থানীয় দোকানে কেনাকাটা বাড়ে, পরিবহণের কাজ বাড়ে, কৃষিশ্রমিকের কর্মসংস্থান হয়, সন্তানের পড়াশোনার ব্যয় মেটে, চিকিৎসা সম্ভব হয়। অর্থাৎ কৃষকের হাতে অর্থের প্রবাহ পুরো গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখে।

এই কারণেই কৃষকের সারের অধিকারকে কোনো রাজনৈতিক অনুগ্রহ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এটি উৎপাদনের মৌলিক প্রয়োজন। আজকের বৈশ্বিক অস্থিরতায় খাদ্যনিরাপত্তা শুধু কৃষি মন্ত্রণালয়ের একটি বিষয় নয়; এটি জাতীয় নিরাপত্তারও অংশ। যে দেশ নিজের জনগণের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদন করতে পারে, সে দেশ বৈশ্বিক সংকটের সময় তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল থাকতে পারে। আর যে দেশ খাদ্যের জন্য অতিরিক্তভাবে বাইরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, আন্তর্জাতিক বাজারের সামান্য ধাক্কাতেও তার অর্থনীতি ও জনজীবনে বড় চাপ তৈরি হতে পারে।
সুতরাং কৃষকের জমিতে সময়মতো সার পৌঁছানোকে জাতীয় অগ্রাধিকারের অংশ হিসেবেই দেখতে হবে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম সেই বৃহত্তর ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা হতে পারে। কিন্তু এর সাফল্য নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ের তদারকি কতটা বাস্তব, অভিযোগের নিষ্পত্তি কতটা দ্রুত এবং অনিয়মকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কতটা দৃশ্যমান—তার ওপর।
কাগজে একটি কন্ট্রোল রুম থাকা বড় কথা নয়; বড় কথা হলো কৃষক যেন তার অস্তিত্ব অনুভব করেন।
তিনি যেন জানেন, সার না পেলে তাঁর কথা শোনার কেউ আছে। তিনি যেন জানেন, নির্ধারিত মূল্যের বেশি টাকা চাইলে অভিযোগ করার পথ আছে। তিনি যেন জানেন, তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে সত্যিই কেউ মাঠে যাবে। আর অসাধু ডিলারও যেন জানেন—কৃষকের অধিকার নিয়ে খেলা করে পার পাওয়ার দিন শেষ।
আমরা এমন একটি কৃষিবান্ধব রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে একজন কৃষককে তাঁর ফসলের মৌসুমে সারের জন্য অসহায় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। যেখানে সরকারি ভর্তুকির প্রতিটি টাকা তার প্রকৃত গন্তব্যে পৌঁছাবে। যেখানে প্রযুক্তি, প্রশাসন ও আইন একসঙ্গে কাজ করবে। যেখানে বাজারে ব্যবসা থাকবে, কিন্তু কৃষকের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে ব্যবসা করার সুযোগ থাকবে না।
সবশেষে মনে রাখতে হবে—কৃষকের ঘাম শুকিয়ে গেলে শুধু তাঁর কপালই শুকায় না; শুকিয়ে যায় দেশের অর্থনীতির একটি বড় সম্ভাবনাও।
এই কৃষকই ভোরে মাঠে যান, তাঁর হাতেই বীজ মাটিতে পড়ে, তাঁর শ্রমেই সবুজ ধান একদিন সোনালি হয়ে ওঠে। সেই কৃষকের প্রয়োজনীয় সার যদি কোনো সিন্ডিকেটের গুদামে আটকে থাকে, তাহলে সেখানে শুধু একজন কৃষক প্রতারিত হন না—প্রতারণার শিকার হয় পুরো বাংলাদেশ।
তাই সার ব্যবস্থাপনায় এখন চাই কঠোর নজরদারি, স্বচ্ছ সরবরাহ, প্রযুক্তিনির্ভর ট্র্যাকিং এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তি। কৃষকের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে কন্ট্রোল রুমকে করতে হবে কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্র।

কোনো কৃষক যেন আর এক বস্তা সারের জন্য চোখের পানি ফেলতে বাধ্য না হন। কোনো পরিবার যেন একটি মৌসুমের ফসল নিয়ে অনিশ্চয়তায় না পড়ে। আর কোনো সিন্ডিকেট যেন কৃষকের ঘামকে নিজেদের অতিরিক্ত মুনাফার সিঁড়ি বানাতে না পারে। কারণ
কৃষক বাঁচলে খাদ্যনিরাপত্তা বাঁচবে, খাদ্যনিরাপত্তা বাঁচলে বাংলাদেশ আরও শক্তিশালী হবে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সম্পাদক, আমার দিন।
ই-মেইল: [email protected]