পল কাপুরের ব্যস্ততম দিন, সিরিজ বৈঠক

পল কাপুরের ব্যস্ততম দিন, সিরিজ বৈঠক

ফন্ট সাইজ:

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সামরিক সংঘাতের মধ্যেই ঢাকা সফরে ব্যস্ত সময় পার করছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফর করলেন। সফরের দ্বিতীয় দিন গতকাল দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি, শুল্ক ছাড় ও জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেন পল কাপুর। আলোচনায় তিনি বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও উৎসবমুখর সাধারণ নির্বাচনে সন্তোষ প্রকাশ করেন। এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। এ সময় তিনি বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে জোর দেন। সেইসঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কের নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে তার সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান যত দ্রুত সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে কূটনৈতিকভাবে ইরান সংকট সমাধানের আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে যুদ্ধ কবে বন্ধ হবে এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া গেছে কিনা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান বলেন, যুদ্ধ বন্ধ এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের হাতে নেই। এমনকি দেশটির একার সিদ্ধান্তও নয়। তবে বাংলাদেশের মতো দেশের জন্যে এই যুদ্ধের যে অর্থনৈতিক প্রতিক্রিয়া হবে। তা বহন করা অসম্ভব।

বুধবার বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ড. খলিল।

তিনদিনের সফরের দ্বিতীয় দিন বুধবার শুরুতে পল কাপুর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে আলোচনা করেন। এরপর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। পরে সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন পল কাপুর। সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি তার সফর উপলক্ষে আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা বাণিজ্যচুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে হুটহাট করে বাণিজ্যচুক্তি করা হয়েছে এ কথা সঠিক নয়। বরং এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী দুই দলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের বৈঠক বিষয়ে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতেও বৈঠকের বিষয় জানানো হয়।

এতে বলা হয়, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মধ্যকার আলোচনায় উভয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক সহ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ড. খলিলুর রহমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের ‘বাংলাদেশ প্রথম’ নীতির উপর জোর দেন। তিনি জাতীয় স্বার্থ এবং অভিন্ন সমৃদ্ধি প্রচারের জন্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাপুর বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও উৎসবমুখর সাধারণ নির্বাচনে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে লেখা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অভিনন্দনপত্রের কথা উল্লেখ করেন এবং আশা করেন যে আগামী দিনে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাপুর বৃহত্তর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নে জোর দেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী নীতিগত ধারাবাহিকতা, বিশেষ করে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে সামপ্রতিক উত্তেজনার বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী সকল পক্ষের সংযম প্রদর্শনের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন এবং প্রাণহানি কমাতে, অঞ্চল এবং তার বাইরে আরও অস্থিতিশীলতা রোধ করতে সংলাপ এবং কূটনৈতিক উপায়ে সংঘাতের দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানান। উভয় পক্ষ রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের জন্য অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানান এবং সংকটের টেকসই সমাধানের জন্য টেকসই আন্তর্জাতিক সমর্থন কামনা করেন। উভয়পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নিয়মিত উচ্চস্তরের সম্পৃক্ততা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ককে আরও গভীরতর করবে।

সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির ও জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পল কাপুর। বৈঠক শেষে বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত সামপ্রতিক বাণিজ্য চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়। প্রয়োজন হলে আলোচনার মাধ্যমে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে চুক্তিতে এমন কিছু উপাদান আছে, যা ভবিষ্যতে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হতে পারে। পরে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে বৈঠক করেন পল কাপুর। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়। সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনদিনের সফরে মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। মঙ্গলবার রাত ৮টার পর দিল্লি হয়ে ঢাকায় পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন