ডিবি কার্যালয়ে ভিডিও ধারণ

পাবনায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অপপ্রচারে ক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

পাবনা প্রেস ক্লাবের সম্পাদক মো. জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভিডিওতে বক্তব্য দেয়া নাফিসা নামে এক তরুণী সংবাদ সম্মেলনে এসে দাবি করেছেন, তাকে জোর করে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কথা বলতে বলা হয়েছিল। তার অভিযোগ, প্রথমে সুবর্ণা হালিম নামে এক বিএনপি নেত্রী তাকে বাসায় নিয়ে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের কথা বলতে বলেন। পরে তাকে পাবনা ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।
নাফিসার দাবি, ডিবি কার্যালয়ে তার মা-বাবার সামনেই জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সংক্রান্ত ভিডিও ধারণ করা হয়। ভিডিওটি ধারণ করেন সোহেল রানা বিপ্লব নামে এক ব্যক্তি। পরে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। শনিবার সংবাদ সম্মেলনে নাফিসা বলেন, তিনি স্বেচ্ছায় ওই বক্তব্য দেননি। তাকে বিভিন্নভাবে চাপ দিয়ে নির্দিষ্ট কথা বলতে বাধ্য করা হয়েছে।

তার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ভিডিওটির সত্যতা ও এর পেছনের উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত অপপ্রচার ও সাংবাদিক নেতা জহুরুল ইসলামের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার ষড়যন্ত্র হিসেবে দাবি করেছেন পাবনায় কর্মরত সাংবাদিকরা। তাদের অভিযোগ, ডিবি পুলিশের মদত ও কারসাজিতে নাফিসাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে জহুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি সাজানো বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়।
ঘটনার প্রতিবাদে পাবনা প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়ামে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সাংবাদিকরা নাফিসার বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরে ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একইসঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান। সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, ঘটনার সঙ্গে ডিবি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে পাবনা ডিবি’র ওসিকে প্রত্যাহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়। একইসঙ্গে পুরো ঘটনা তদন্তে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়।