রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সশস্ত্র গ্রুপের গোলাগুলি, সতর্ক থাকতে মাইকিং

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আবারো সশস্ত্র গোষ্ঠীর গোলাগুলিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাশাপাশি থাকা দু’টি ক্যাম্পে গত শুক্রবার রাতভর গুলির শব্দে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সাধারণ রোহিঙ্গারা। একপর্যায়ে ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়। নিজ নিজ ঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে সতর্ক থাকার জন্যও বলা হয়।

শুক্রবার দিবাগত রাতে উখিয়ার হাকিমপাড়া ও জামতলী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের দাবি, ক্যাম্প দু’টিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন (আরএসও) ও আরসা সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। জামতলী ক্যাম্পের বাসিন্দা রহমত উল্লাহ বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাতে হঠাৎ করে ক্যাম্পের বিভিন্ন দিক থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে মাইকিং করে সবাইকে সতর্ক করা হয়। তার দাবি, আরএসও সদস্যরা গুলিবর্ষণ করেছে বলে তারা জানতে পেরেছেন। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আরএসও ও আরসার মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলেও জানান তিনি। ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অতিরিক্ত ডিআইজি রিয়াজ উদ্দিন বলেন, হাকিমপাড়া ও জামতলী ক্যাম্প পাশাপাশি অবস্থিত। হাকিমপাড়া ক্যাম্পে আরএসও এবং জামতলী ক্যাম্পে আরসার আধিপত্য রয়েছে।

কয়েকদিন ধরে সেখানে এ ধরনের ঘটনা চলছিল। রাতে আরএসও সদস্যরা জামতলী ক্যাম্পে হামলার চেষ্টা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মূলত আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এসব ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, দুই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের আটকের চেষ্টা চলছে। এসব সংগঠনের সদস্যদের কাছে ভারী অস্ত্র রয়েছে বলেও তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগেও জামতলী ও হাকিমপাড়া ক্যাম্পে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রায়ই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সংঘর্ষে একপক্ষের গুলিতে অপর পক্ষের সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। ফলে ক্যাম্পে বসবাসরত সাধারণ রোহিঙ্গাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ রোহিঙ্গারা অনেকটা জিম্মি হয়ে পড়েছেন। দিনের বেলায় প্রকাশ্যে না হলেও রাত হলেই বিভিন্ন ক্যাম্পে গুলির শব্দ শোনা যায়। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্যাম্পে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বন্ধে শুধু বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, তাদের অস্ত্রের উৎস, অর্থের জোগান, মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারের নেটওয়ার্ক চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া জরুরি। অন্যথায় এক ক্যাম্পের গোলাগুলি ছড়িয়ে পড়তে পারে পাশের ক্যাম্পগুলোতেও।