চা-বাগান, হাওর ও পাহাড়ঘেরা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষ হয়েছে। এ থেকে ৭৪ হাজার টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমন আবাদ নির্বিঘ্ন রাখতে উপজেলায় সার সরবরাহ ও মজুত পরিস্থিতি নিয়মিত মনিটরিং করছে কৃষি বিভাগ। উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ১০ জন ডিলারের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে সার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের দাবি, বর্তমানে উপজেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে কৃষকদের কেউ কেউ হাতের কাছে সার পাওয়ার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দাম নেয়ার অভিযোগ করেছেন।
আবার কোনো কোনো ডিলার চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন। সদর ইউনিয়নের ভাড়াউড়া গ্রামের কৃষক আসাদ মিয়া এবার হাইল হাওরে ৮ কেয়ার জমিতে আমন-সাইল ধান চাষ করেছেন। তিনি বলেন, বাজারে সারের কোনো সংকট নেই। তবে কিছু দোকানি বেশি দাম নিচ্ছেন। উত্তর ভাড়াউড়া গ্রামের কৃষক সেলিম মিয়া ৬ কেয়ার জমিতে আমন আবাদ করেছেন। তার ভাষ্য, সার নিয়ে সংকট না থাকলেও উৎপাদিত ধান সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিক্রি করতে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। এতে অনেক সময় উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হয়। ভুনবীর ইউনিয়নের কৃষক বাছিদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, হাতের কাছে সার পাওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু সাব-ডিলার ও দোকানি প্রতি কেজি ইউরিয়া ২ থেকে ৫ টাকা বেশি নিচ্ছেন।
এসব অভিযোগ বিষয়ে বিক্রেতারা জানান, প্রত্যন্ত এলাকায় সার পরিবহন ও খুচরা সার বিক্রির সময় ব্যাগের খরচ মিলিয়ে ২-৫ টাকা কেজিতে বেশি নিতে হয়। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন (বিএফএ) মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ডিলার জননী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী অনুকূল চন্দ্র দাশ বলেন, বাজারে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ রয়েছে। চলতি মাসে তার অনুকূলে ৪৫ টন সার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বর্তমানে সারের কোনো সংকট নেই। ১০ই সেপ্টেম্বর সরজমিন তার গুদামে ইউরিয়া ৬৩৪ বস্তা, টিএসপি ৪০ বস্তা, এমওপি ১০৫ বস্তা এবং ডিএপি ১০০ বস্তা মজুত দেখা গেছে। আশিদ্রোন ইউনিয়নের ডিলার স্বপন কপালী বলেন, সেপ্টেম্বর মাসে তিনি ৩৫ টন সার বরাদ্দ পেয়েছেন। তার কাছেও সারের কোনো সংকট নেই।
কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা প্রতিদিন গুদাম পরিদর্শন করে মজুতের হিসাব নিচ্ছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকালে তার পৃথক দুটি গুদাম পরিদর্শন করে ইউরিয়া ২৬০ বস্তা, টিএসপি ১৪৫ বস্তা, এমওপি ২০০ বস্তা ও ডিএপি ৩২১ বস্তা মজুত পাওয়া যায়। তবে রাজঘাট ইউনিয়নের ডিলার আবিদা সুলতানা চৌধুরী বলেন, তার ইউনিয়নে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম পাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, উপজেলায় সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত সারের দোকান ও গুদাম মনিটরিং করছে। কোনো ডিলার বা বিক্রেতা বেশি দামে সার বিক্রি করছেন এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
