চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার সীমান্তবর্তী কোরিয়ান ইপিজেড (কেইপিজেড) এলাকায় পাহাড় থেকে নেমে আসা দু’টি বন্যহাতির অবাধ বিচরণে আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এর মধ্যে হাতি দেখতে আসা একশ্রেণির দর্শনার্থীর দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় কেইপিজেডের বিভিন্ন সড়ক ও এলাকায় দু’টি বন্য হাতিকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। হাতি দেখতে সেখানে ভিড় করেন উৎসুক মানুষ। তাদের কেউ কেউ হাতির খুব কাছে গিয়ে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্যহাতির স্বাভাবিক চলাচলে মানুষের এমন হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। এতে হাতিগুলো হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা, এমনকি প্রাণহানিও। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে বন্য হাতির একটি পাল কেইপিজেডের পাহাড়ে আসা-যাওয়া শুরু করে।
কয়েকদিন অবস্থানের পর চলে গেলেও ২০১৮ সাল থেকে হাতিগুলো দেয়াং পাহাড় এলাকায় অনেকটা স্থায়ীভাবে বিচরণ করছে। বর্তমানে হাতির পালটি আনোয়ারার বটতলী ও হাজীগাঁও এবং কর্ণফুলীর কেইপিজেড-সংলগ্ন দেয়াং পাহাড়, হ্রদ ও বনঘেরা এলাকায় বিচরণ করে। চট্টগ্রামের বাঁশখালী বনবিভাগের বনকর্মী মোহাম্মদ ফোরকান বলেন, বন্যপ্রাণীকে বিরক্ত করা কিংবা কাছে গিয়ে উত্ত্যক্ত করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শান্ত অবস্থায় থাকা হাতিও বিরক্ত হলে হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে। তাই দর্শনার্থীদের নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করার পাশাপাশি কোনোভাবেই হাতিকে উত্ত্যক্ত না করার অনুরোধ করেন তিনি।
