নেত্রকোণায় পানিতে ডুবে দুই সপ্তাহে ১০ শিশুর মৃত্যু

ফন্ট সাইজ:

গত দুই সপ্তাহে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পানিতে ডুবে অন্তত ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলার কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, পূর্বধলা, দুর্গাপুর ও খালিয়াজুড়ি উপজেলায় গত ২৮শে আগস্ট থেকে ১২ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে। এসব দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১৮ মাস বয়সের শিশু থেকে ১১ বছর বয়সের শিক্ষার্থীও রয়েছে।

শনিবার সর্বশেষ খালিয়াজুড়ি উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের জাহেরপুর গ্রামের মো. সেলিম মিয়ার ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৫) একই গ্রামের মো. সেকুল মিয়ার ছেলে শাহাদত (৪) ডোবায় পড়ে মারা যায়।
শুক্রবার কলমাকান্দার সদর ইউনিয়নের চিনাহালা এলাকায় পানিতে ডুবে চার বছর বয়সী আব্দুল্লাহ নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুটি ওই এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। এর একদিন আগে বৃহস্পতিবার কলমাকান্দার রংছাতি ইউনিয়নের পানেশ্বরপাড়া এলাকায় বাড়ির পাশে পানিতে পড়ে মারা যায় মিস্টার মিয়ার ১৮ মাসের শিশুসন্তান আব্দুর রহমান। বুধবার মোহনগঞ্জের টেংগাপাড়া এলাকায় খালে পড়ে মারা যায় ১১ বছর বয়সী আলী। সে পানুর গ্রামের আশিকুলের ছেলে এবং পানুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ৬ই সেপ্টেম্বর কলমাকান্দা সদর ইউনিয়নের কয়রাখালী গ্রামে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে বাঁশের সাঁকো পার হতে গিয়ে খালে পড়ে মারা যায় আরাফ (৭)। সে ওই এলাকার হৃদয় মিয়ার ছেলে। ৪ঠা সেপ্টেম্বর মোহনগঞ্জ পৌরশহরের মাইলোড়া এলাকায় শিয়ালজানি খালে ডুবে মারা যায় ওই এলাকার বাসিন্দা প্রদীপ দে’র ৬ বছর বয়সী ছেলে পাথর দে। ৩১শে আগস্ট পূর্বধলার খলিশাউড় ইউনিয়নের পূর্ব পাবই গ্রামে পুকুরে ডুবে মারা যায় প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সৃজন সূত্রধর (৬)। সে ওই গ্রামের সুমন সূত্রধর ও মিতু রানী সূত্রধর দম্পতির ছোট ছেলে। একইদিন দুর্গাপুরের বাকলজোড়া ইউনিয়নের শিরামখীলা গ্রামে পুকুরে ডুবে মারা যায় নওশাদ (৪)।

সে ওই গ্রামের মেহেদি হাসানের ছেলে। এর আগে ২৮শে আগস্ট পূর্বধলার গাংগের বেড়া এলাকায় কংস নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয় ১৮ মাস বয়সী মেয়ে সাদিয়া আক্তার। সে গ্রামের মোশারফ হোসেন ও রোজিনা বেগম দম্পতির মেয়ে। এসব দুর্ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, শুধুমাত্র সচেতনতার অভাবে পানিতে ডুবে শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে। নেত্রকোণা সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম মাওলা বলেন, বর্ষা মৌসুমে বাড়ির আশপাশের পুকুর, খাল ও জলাশয়ে পানি বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের পানিতে পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবারের সদস্যদের শিশুদের প্রতি বাড়তি নজর রাখা প্রয়োজন।
জেলায় পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক।