সৈয়দপুরে রেলের জায়গা ও কোয়ার্টার দখলের মহোৎসব

সৈয়দপুরে রেলের জায়গা ও কোয়ার্টার দখলের মহোৎসব

ফন্ট সাইজ:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের ৮০০ একর জমির মধ্যে ৪৫০ একর জমি অবৈধ দখলে চলে গেছে। এসব জমিতে গড়ে উঠেছে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাসাবাড়ি ও বহুতল ভবন। এ ছাড়া বিভিন্ন মহল্লায় রেলওয়ের গড়ে ওঠা ২ হাজার ৪২৮ কোয়ার্টারের মধ্যে ১ হাজার ৩২৫টি কোয়ার্টার বেদখল হয়েছে। এসব তথ্য সৈয়দপুরে রেলওয়ে সূত্রের। ওই সূত্রটি বলছেন, সৈয়দপুরে রেলভূমি দখল-সংক্রান্ত দুই হাজারেরও বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। কিন্তু নিষ্পত্তি কবে নাগাদ হবে তা বলা মুশকিল। রেলওয়ে কারখানা সূত্র জানায়, ১৮৭০ সালে আসাম বেঙ্গল রেলওয়ের বিশাল কারখানা গড়ে ওঠে সৈয়দপুর। ওইসময় রেল বিভাগ ৮০০ একর ভূসম্পত্তি অ্যাকোয়ার করে নেয়।

এর মধ্যে ১১০ একর ভূসম্পত্তিতে রেলওয়ে কারখানা স্থাপিত হয়। প্রায় ২০০ একরের বেশি জায়গায় রেলওয়ে ভবন ও ২ হাজার ৪৮০টি কোয়ার্টার নির্মাণ করা হয়। পৌর বাজার রয়েছে ২৫ একর জায়গায়। রেলওয়ের বিভিন্ন মহল্লায় ২ হাজার ৪৮০টি কোয়ার্টারের মধ্যে অবৈধ দখলে চলে গেছে ১ হাজার ৩২৫টি। ১৯৭১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্থানীয় প্রভাবশালী উর্দুভাষী ব্যক্তিরা প্রথমে রেলওয়ের জমি ও কোয়ার্টার দখলে নিয়ে পরে বিক্রি করে দেন। দখল করা রেলওয়ের জমিতে ভবন, বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ করেছেন। সৈয়দপুর শহরের খালাসী মহল্লা, গোলাহাট, ইসলামবাগ, রসুলপুর, মুন্সিপাড়া, নতুন বাবুপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, গার্ডপাড়া, অফিসার্স কলোনি ও আতিয়ার কলোনিতে রেলের অসংখ্য কোয়ার্টার বেদখল হয়ে গেছে। কেউ কেউ কোয়ার্টার ভেঙে নির্মাণ করেছেন মার্কেট। দখলকারীরা রেলওয়ের জমি দখল বিক্রি ও ব্যবসা করে অল্প দিনে কোটি কোটি টাকার মালিক হলেও জমি ও কোয়ার্টার হারাচ্ছে রেল বিভাগ। সৈয়দপুর শহরের অনেকের অভিযোগ, রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরিফুল ইসলাম ২০২১ সালে সৈয়দপুর আইডব্লিউ অফিসে যোগদান করেছেন।

২০২১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত তিনি একই কার্যালয়ে কর্মরত আছেন। তার ওই কার্যালয়ে কর্মরত থাকা অবস্থায় যতগুলো রেলওয়ের জমি ও কোয়ার্টার বেদখল হয়েছে তা অন্য কারও সময়ে হয়নি। রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক ইউনিয়ন এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোবায়েত হোসেন বলেন, সৈয়দপুর শহরে রেলের কমপক্ষে ৪৫০ একর জায়গা অবৈধ দখলে চলে গেছে। কর্তৃপক্ষের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। রেলওয়ের জমি ও কোয়ার্টার বেদখল নিয়ে কথা বলতে গেলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরিফুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে এবং আর অতিরিক্ত কথা বলতে রাজি হননি।

তবে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, শহরে রেলের জমিতে কমপক্ষে চার হাজারেরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন তৈরি হয়েছে। হয়েছে বহুতল বাণিজ্যিক ভবনও। রেলওয়ের যেসব জমি ও কোয়ার্টার প্রয়োজন নেই সেগুলো স্কয়ার ফিট হিসেবে জনগণের কাছে বিক্রি দিয়ে রেলওয়ের প্রয়োজনীয় সব জমি ও কোয়ার্টার উদ্ধার করা হলে রেলওয়ের ঐতিহ্য ফিরবে বলে জানান তিনি।