হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জে দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়েই প্রতিদিন বিভিন্ন সড়কে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অর্ধশতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃত গাছ এখন নীরব আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। অনেক গাছ শুকিয়ে ভঙ্গুর হয়ে গেছে। কোথাও বড় বড় ডালপালা ঝুঁঁকে পড়েছে সড়কের উপর, আবার কোথাও গাছ হেলে রয়েছে বিদ্যুতের তারের দিকে। যেকোনো সময় এসব গাছ বা ডালপালা ভেঙে পড়ে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। সমপ্রতি শায়েস্তাগঞ্জ শহর ও আশপাশের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। সরজমিন দেখা যায়, সড়কের বিভিন্নস্থানে শুকিয়ে যাওয়া গাছের ছাল ও ডালপালা খসে পড়ছে।
অনেক গাছের বড় বড় ডাল সড়কের উপর বিপজ্জনকভাবে ঝুঁকে রয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় এসব ডালের সঙ্গে ধাক্কা লাগারও আশঙ্কা রয়েছে। শুধু পথচারী নয়, এসব সড়কে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরাও রয়েছেন আতঙ্কে। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় তাদের শঙ্কা আরও বেড়ে যায়। শায়েস্তাগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে নিয়মিত চলাচলকারী মোটরসাইকেল চালক সোহেল মিয়া বলেন, সড়কের পাশে অনেক মরা ও হেলে পড়া গাছ রয়েছে। কখন কোন গাছের ডাল গায়ের ওপর এসে পড়ে, সেই আতঙ্ক থাকে।
কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো চিহ্নিত করে অপসারণ করা। ভ্যানচালক হারুন রশীদ বলেন, মরা গাছের ডাল পড়ে কয়েকদিন আগে দু’জন আহত হয়েছে। গাড়ির ওপর ডাল পড়ে কাঁচও ভেঙেছে। গাছগুলো দ্রুত কেটে সরানো দরকার। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ গাছগুলো দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জন্য বিপদ তৈরি করলেও সেগুলো অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। গাছ কাটার বিষয়ে আইনগত জটিলতার কারণে স্থানীয়রাও নিজ উদ্যোগে এসব গাছ অপসারণ করতে পারছেন না। স্থানীয়রা বলছেন, একটি দুর্ঘটনা একটি পরিবারকে মুহূর্তেই নিঃস্ব করে দিতে পারে। তাই বড় কোনো দুর্ঘটনা কিংবা প্রাণহানি ঘটার আগে সড়কের পাশে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ ও মৃত গাছগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত অপসারণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
