তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর থেকে আফগানিস্তানে নারী ক্রিকেট বন্ধ। দেশটির নারী দল না থাকা নিয়ে গত কয়েক বছরে আলোচনা হয়েছে অনেক। এবার প্রথমবারের মতো এ প্রকাশ্যে বিষয়ে মুখ খুললেন দেশটির পুরুষ ক্রিকেট দলের অন্যতম নক্ষত্র রশিদ খান। অবশ্যই নিজ দেশের মেয়েদের দল দেখতে চান তিনি। তবে পরে অসহায়ত্বও ফুটে ওঠে তার কথায়।
চলমান বিশ্বকাপে চেন্নাইয়ে নিউজিল্যান্ড ম্যাচের আগে রশিদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, আফগান ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় দূত হিসেবে তিনি নারী দলকে দেখতে চান কি না। নিজের মতামত জানিয়ে এ তারকা অলরাউন্ডার বলেন, ‘নারী দল? অবশ্যই চাই। আমি যতদূর জানি, (আইসিসির) পূর্ণ সদস্য দেশ হওয়ার জন্য এটি একটি মানদণ্ডও। আইসিসি, আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি), তাদের আরও ভালো ধারণা আছে। তবে যে কাউকে যে কোনো পর্যায়ে আফগানিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে দেখলে ভালো লাগবে।’ এরপর পারিপার্শ্বিক বাস্তবতা তুলে ধরে ২৭ বছর বয়সী রশিদ আরও বলেন, ‘কখনও কখনও ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের কাছে অনেক কিছুর নিয়ন্ত্রন নেই এবং নিয়ন্ত্রণযোগ্য বিষয়গুলো নিয়ে আমরা কেবল ভাবতেই পারি। (নারী ক্রিকেটের) বিষয়েও আমরা এমন পরিস্থিতিতে আছি যে, খুব বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই। হ্যাঁ, যে সমর্থন দরকার, তা সবসময়ই আছে। তবে আরও বড় বড় মানুষেরা আছে, তারাই সিদ্ধান্ত নেয় এবং সামনে এগিয়ে নেয়।’
আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদ পেতে হলে যেসব শর্ত পূরণ করতে হয়, তার একটি হলো ছেলে ও মেয়ে দু’টি দলই থাকতে হবে। এ শর্ত পূরণ করার কথা দিয়েই ২০১৭তে টেস্ট মর্যাদা পায় আফগানিস্তান। ওই সময়ে আফগান সরকার ধীরে ধীরে প্রক্রিয়া চালু করে এবং মেয়েরা অল্প হলেও ক্রিকেট খেলা শুরু করে।
পরবর্তীতে ২০২০-এ প্রথমবারের মতো ২৫ নারী ক্রিকেটারকে কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতাভুক্ত করা হয়। তবে পরের বছর তালেবানরা ক্ষমতা গ্রহণ করলে ভেস্তে যায় সবকিছু। ক্রিকেট খেলা তো অনেক দূরের ব্যাপার, মেয়েদের স্কুলে যাওয়াই ক্রমে বন্ধ হয়ে যায়। নারী শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেসময় রশিদের মতো প্রতিবাদ জানান মোহাম্মদ নবী, রহমানউল্লাহ গুরবাজের মতো তারকারা। তবে তাদেরও হাত যে বাধা, সেটি তখনও স্বীকার করেন তারা।
আফগানিস্তানের নারী দল দেখতে চান রশিদ খান
স্পোর্টস ডেস্ক
খেলা
৩ মাস আগে
১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার), ২০২৬, ৪ঃ৩৪ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
