যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ব বাণিজ্য কেন্দ্রে ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলায় ইরান জড়িত নয়। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীকে ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের যৌক্তিকতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করছে। এমন অভিযোগ তুলে ওয়াশিংটনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের দাবি, সন্ত্রাসবাদ ও রাজনৈতিক সহিংসতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দ্বৈত মানদণ্ড অনুসরণ করছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইনম জিও নিউজ।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে ‘মৌলিক অসংগতি’ রয়েছে। তার যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে সন্ত্রাসবাদের সংজ্ঞা নির্ধারণের একচেটিয়া অধিকার দাবি করতে পারে না, অন্যদিকে নিজেই আগ্রাসন, হত্যাকাণ্ড ও বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটানো হামলা চালাবে।
বাঘাই জোর দিয়ে বলেন, ৯/১১ হামলার কোনো হামলাকারীই ইরানি ছিল না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ৯/১১ হামলার কয়েক দশক আগে বিভিন্ন সংঘাতে জড়িত গোষ্ঠীগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্র, সংগঠন কিংবা অন্য কোনোভাবে সহায়তা করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ও সমালোচনা করেন ইরানের এই মুখপাত্র। তার মতে, এর পর আফগানিস্তান ও ইরাকে শুরু হওয়া যুদ্ধের ফলে বছরের পর বছর সংঘাত, দখলদারিত্ব, বেসামরিক মানুষের মৃত্যু এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘বেপরোয়া ও অবৈধ যুদ্ধকে’ বৈধতা দিতে ৯/১১ হামলার বার্ষিকীকে সামনে আনা ‘সম্পূর্ণ হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেন বাঘাই। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অপরাধমূলক যুদ্ধ’ চালানোর অভিযোগও তোলেন।
তার দাবি, একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের হত্যার পাশাপাশি নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। বাঘাই বলেন, এসব কর্মকাণ্ডকে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান হিসেবে উপস্থাপন করে কোনোভাবেই ন্যায্যতা দেওয়া যায় না।
