সুইডেনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

সুইডেনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস

ফন্ট সাইজ:

 আগামীকাল রোববার সুইডেনে সাধারণ নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে সুইডেনের বাম ও ডানপন্থি রাজনৈতিক জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমান রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন আবার সরকারপ্রধান হতে পারলে কট্টর ডানপন্থি মিত্রদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সর্বশেষ জনমত জরিপগুলোতে বামপন্থি জোট সামান্য এগিয়ে রয়েছে। এই জোট ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টারসনের পরিবর্তে সোশ্যাল ডেমোক্রেটদের নেতা ম্যাগদালেনা আন্দেরসনকে আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চায়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ক্রিস্টারসন সরকারকে সমর্থন দিয়ে আসছে কট্টর ডানপন্থি দল সুইডেন ডেমোক্রেটস (এসডি)। দলটির শিকড় নব্য-নাৎসি রাজনীতিতে। জাতীয় নিরাপত্তা, গ্যাং-সহিংসতা এবং কল্যাণ খাতে সরকারি ব্যয় নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। তবে অভিবাসনবিরোধী সুইডেন ডেমোক্রেটসকে এবার সরকারে নেয়া হবে কি না, সেটিও নির্বাচনের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

সুইডেনে প্রধানত দুটি বড় রাজনৈতিক জোট রয়েছে- ডানপন্থি চারটি দল এবং বামপন্থি চারটি দল। ফলে দেশটির ভোটাররা জোট সরকার ও সংখ্যালঘু সরকারে অভ্যস্ত। এবারের নির্বাচনে সুইডেনের রিক্সড্যাগের জন্য ভোট দেয়ার যোগ্য ভোটারের সংখ্যা ৮০ লাখের বেশি। শুক্রবার সুইডিশ সংবাদমাধ্যম একোটের জন্য পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, বামপন্থি জোট ৫০ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেতে পারে। বিপরীতে ডানপন্থি জোটের সমর্থন ৪৭ দশমিক ৬ শতাংশ। অর্থাৎ বাম জোট ৩ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। সরকারি ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া মধ্য-বামপন্থি সোশ্যাল ডেমোক্রেটস ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ সমর্থন নিয়ে জরিপে শীর্ষে রয়েছে। ডানপন্থি জোটের মধ্যে সুইডেন ডেমোক্রেটসের সমর্থন ১৮ দশমিক ৩ শতাংশ। শুক্রবার প্রকাশিত অন্যান্য জনমত জরিপেও বামপন্থি জোটকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সুইডেনে নিয়মিত সরকার গঠন করেছে সোশ্যাল ডেমোক্রেটস। গত শতাব্দীর বড় একটি সময়জুড়ে দলটি ছিল দেশটির প্রধান রাজনৈতিক শক্তি। এর বিপরীতে ১৯৮০-এর দশকে নাৎসি মতাদর্শের সমর্থকদের হাতে প্রতিষ্ঠিত সুইডেন ডেমোক্রেটসকে বহু বছর মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলো এড়িয়ে চলেছে। তবে ২০২২ সালের নির্বাচন দলটির জন্য বড় পরিবর্তনের সূচনা করে। অভিবাসন ও সহিংস অপরাধকে কেন্দ্র করে জোরালো প্রচারণা চালিয়ে এসডি সুইডেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে উঠে আসে। এরপর দলটি বর্তমান মধ্য-ডানপন্থি জোট সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন দিয়ে আসছে। এই সরকার অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করেছে। এর মধ্যে শরণার্থীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বাতিল এবং বহিষ্কার বাড়ানোর মতো পদক্ষেপও রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত সুইডেন ডেমোক্রেটসের কোনো এমপি মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পাননি। এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় সুইডেন ডেমোক্রেটসকে ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। দলটির এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাশিয়াপন্থি বার্তা ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টারসন বলেছেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ওই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা উচিত। দলটির নেতা জিমি অকেসন জানিয়েছেন, বিষয়টি তারা তদন্ত করছেন।