হবিগঞ্জ শহরে ফের কিশোর গ্যাং চক্র সক্রিয়। প্রতিদিনই কোনো না কোনো অপরাধে নিজেদের জড়িয়ে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তাদের অপতৎপরতায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন নারী ও বয়স্করা। শুধু হবিগঞ্জ শহরই নয়, বিভিন্ন উপজেলা শহরেও তারা দলবদ্ধ হয়ে মারামারি, হাতাহাতি, ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এতে সাধাররণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে।
গত ৩১শে আগস্ট সকালে শহরের রাজনগর এতিমখানা রোড এলাকায় এক নারীর গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়ার অভিযোগ নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, সকালে ওই নারী বাসার নিচের সড়কে হাঁটতে বের হলে একটি জিক্সার মোটরসাইকেলে দুইজন এসে তার গতিরোধ করে।
এ সময় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন এবং হাতের একটি চুড়ি নিয়ে পালিয়ে যায়। পরিবারের অভিযোগ, ছিনতাইয়ের সময় ওই নারীর গলায় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করারও চেষ্টা করা হয়। এর আগে গত ১১ই জুলাই ভোর ৭টায় বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলে সন্তানকে পৌঁছে দিয়ে বাসায় যাওয়ার সময় শহরের রাজনগর কবরস্থান এলাকায় এক নারীকে পথরোধ করে হেলমেট পরা দুই বাইকার। তারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ওই নারীর একটি স্বর্ণের আংটি ও গলার চেইন ছিনিয়ে নেয়। এতে এ এলাকায় ভোরে ও রাতে চলাচলে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নারীরা। এমন ঘটনায় সকালবেলা শিশুদের স্কুলে নিয়ে যাওয়া নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত ১৯শে আগস্ট শহরের চাষিবাজার এলাকায় দুইদল কিশোরের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগেও ওই এলাকায় একাধিকবার কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করে এবং কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন জামিনে বের হয়ে আবারো সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। শহরের বিভিন্ন মোড়ে এসব কিশোররা আড্ডা দেয়। সুযোগ বুঝে তারা ছিনতাই বা মাদক সেবনে জড়িয়ে পড়ে। এসব কিশোরদের দেখলে এখন অনেকটা আতঙ্কে থাকেন পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শহরের বিভিন্ন এলাকায় কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চলাচল এবং সংঘর্ষের ঘটনা আবারো বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অনেক সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও পরবর্তীতে জামিনে বেরিয়ে আসা অভিযুক্তদের ওপর নজরদারি কতোটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে।
শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশের টহল বৃদ্ধি এবং সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন বলে মনে করেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে সকালবেলা একা চলাচলকারী নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল হক জানান, পুলিশ যেগুলো অবগত হয় তার আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে। তবে শহরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সক্রীয় রয়েছে। কিশোর গ্যাং বা অন্য যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
