রাজশাহী নগরীতে থামছেই না কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, হত্যা, সন্ত্রাসী হামলা, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই, বেপরোয়াগতিতে মোটরসাইকেল দাপিয়ে বেড়ানো, মাদক সেবন ও বিক্রিসহ নানা অপরাধে জড়াচ্ছে তারা। গ্যাং সদস্যরা পথচারী বা অটোরিকশা যাত্রীর ব্যাগ ধরে টান দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। স্কুল-কলেজগামী মেয়েদের রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করার ঘটনা ঘটছে। এদের বেপরোয়া চলাফেরায় অতিষ্ঠ নগরবাসী।
সরজমিন দেখা গেছে, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন নামে গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। এর মধ্যে রয়েছে, ‘টেন স্টার বয়’, ‘রাইজিং বয়’, ‘অদম্য বালক’। এসব কিশোর গ্যাং সদস্যের অনেকে সারা দিন ঘুমায়, রাত হলেই নানা অপরাধে জড়ায়। ২ বছর আগে মহানগরীতে ৫ শতাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যের একটি ডাটাবেজ তৈরি করেছিল রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট। কিন্তু নিয়মিত নজরদারির অভাবে এলাকাভিত্তিক কিশোর গ্যাং সদস্যের সংখ্যা আরও বাড়ছে। পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংগুলোর পরোক্ষভাবে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে কতিপয় রাজনৈতিক দলের নেতাদের বিরুদ্ধে।
সূত্রমতে, কিশোর গ্যাং সদস্যদের অনেকেই এসেছে সচ্ছল পরিবার থেকে। তাদের সঙ্গে জোট বাঁধছে নগরীর বস্তির কিশোর-যুবকরা। এদের অনেকেরই দামি মোটরসাইকেল রয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই তারা তিনজন করে মোটরসাইকেলে উঠে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে নগরীর এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত। সম্প্রতি রাজশাহী নগরীতে ৪টি ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে ৪টি মামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। সম্প্রতি নগরীর শাহ মখদুম থানা এলাকায় এক রিকশা চালকের ওপর হামলা করে কয়েকজন কিশোর এবং তার সঙ্গে থাকা টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেয়া হয়। এ ঘটনায় অবশ্য দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ বিয়য়ে রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি বলেন, শান্তির নগরী রাজশাহীতে কোনো কিশোর গ্যাংয়ের স্থান হবে না। যারা চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী, মাদক কারবারি তাদের কোনো দল নেই। আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বলবো তারা যেন কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহণ করে। শান্তির নগরী যেন অশান্ত না হয়।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র ও ডিসি (সিটিটিসি) গাজিউর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাং সদস্যদের নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। আগের তুলনায় নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের সংখ্যা কমেছে। নতুন করে কোনো গ্রুপ তৈরি হচ্ছে কি না পুলিশ সেদিকে নজর রাখছে। নিয়মিত উঠান বৈঠক, কমিউনিটি পুলিশিং সভা, বিট পুলিশিং সভা, স্কুল কলেজে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক সভাসহ নানাবিধ কার্যক্রমের ফলে কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ কমে গেছে। কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মোটরসাইকেল নিয়ে যেন কোনো অপরাধ করতে না পারে তার জন্য রাস্তায় চেকপোস্ট বসিয়ে মোটরসাইকেল আটক করা হচ্ছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
