মৌলভীবাজারে নতুন উপদ্রব ‘কিশোর গ্যাং’

ফন্ট সাইজ:

জেলা শহরে অশান্তির এক নতুন উপদ্রব ‘কিশোর গ্যাং’। ১২ই আগস্ট একই দিনে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ৩টি স্পটে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়ায় প্রতিপক্ষকে প্রাণে মারার উদ্দেশ্যে ৩টি হামলা। ওই ঘটনাগুলোর ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল। এই ট্রিপল হামলার ঘটনা এখনো ‘টক অব দ্য টাউন’। এমন ভয়ঙ্কর দৃশ্যে শহর জুড়ে আতঙ্ক বাড়ছে। চরম উদ্বেগ- উৎকণ্ঠায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহল। তবে পুলিশ বয়সের সংজ্ঞায় ওদের স্রেফ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বলতে নারাজ। পুলিশ বলছে এদের পরিচয় উঠতি সন্ত্রাসী বা কেবলই সন্ত্রাসী। এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা বলছেন সব বয়সের সম্মিলিত গ্যাংই এখন কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। এখন দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এই সন্ত্রাসীরা। নিজেকে জড়াচ্ছে অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং, মাদক সেবন ও মাদক ক্রয়- বিক্রয়ে। ভাড়ায় টার্গেট কিলিং, চুরি ও ছিনতাইয়েও যুক্ত হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান জোরালো ভূমিকা না থাকায় দিন দিন বেসামাল হচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য বা উঠতি সন্ত্রাসীরা।

চলতি বছরের ৩১শে জুলাই মৌলভীবাজারে ‘ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং হটস্পট’- শিরোনামে একটি নিউজ মানবজমিন-এ প্রকাশ হয়েছিলো। ওই নিউজে যে স্পটগুলোর কথা বলা হয়েছিলো ওই স্পটেই ঘটে হামলার ঘটনা। ভুক্তভোগীরা বলছেন- এই স্পটগুলোতে পুলিশের টহল থাকলে এই ঘটনাগুলো ঘটতো না। গেল বছর পৌরসভা এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হাতে খুন হন এডভোকেট সুজন মিয়া। এদের এমন কার্যকলাপ থামাতে কঠোর হয়ে নামছে পুলিশ। জুলাই মাসে জেলা পুলিশের উদ্যোগে আয়োজিত শহরের শিল্পকলা একাডেমির অডিটরিয়ামে পুলিশ-নাগরিক মতবিনিময় সভায় এমনটি জানানো হয়। কিন্তু এই ঘোষণার বাস্তবায়ন ততটা জোরালো না থাকায় এই অপরাধীরা হয় আরও বেপরোয়া। তবে ১২ই আগস্টের ঘটনার পর পুলিশ এদের ধরতে বেশ তৎপর হয়। মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম. নাসের রহমান কিশোর গ্যাংয়ের নামে চলা সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নির্মূলে তার কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

১২ই আগস্টে ট্রিপল হামলা: উঠতি সন্ত্রাসীদের হামলায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মৌলভীবাজার টাউন কামিল মাদ্রাসারা ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাসান আহমদ। জানা যায় শহরের কুসুমবাগ এলাকায় ওইদিন রাতে তার ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। এয়ার এম্বুলেন্সে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেয়া হয় এখনো তিনি ওই হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন। শহরের ৮নং ওয়ার্ডের ধরকাপন এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান রাব্বি (মন্টু মিয়া) ১২ই আগস্ট রাতে শহরতলীর পাগুলিয়া এলাকায় ইনডোর স্টেডিয়ামে খেলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে তাকে ডেকে নিয়ে একদল উঠতি সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করে। একই দিন বিকালে শহরের চৌমোহনা এলাকায় সমশের নগর রোডে কয়েকজন অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় প্রতিপক্ষের ওপর। এই হামলায় মেহেদী হাসান রনিসহ ৩-৪জন গুরুতর আহত হন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। মৌলভীবাজার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম জানান- পুলিশ দু’টি মামলায় এ পর্যন্ত কয়েকজনকে আটক করেছে। অন্যদেরকে গ্রেপ্তার করতে তৎপর রয়েছে। সকলের সহযোগিতায় পুলিশ এসব সন্ত্রাসীকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নির্মূল করতে বদ্ধপরিকর।
এবিষয়ে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন- মৌলভীবাজারে কোনো কিশোর গ্যাং নেই। যারা এ রকম ঘটনা ঘটাচ্ছে তাদের একটাই পরিচয় তারা সন্ত্রাসী।