বরিশালে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। রাজনৈতিক বড় ভাইদের শেল্টারে বেপরোয়া এসব কিশোর মাদক বিক্রিসহ নানা অপরাধে জড়িত। পুলিশ এদের আটক করলেও এদের বেশি সময় ধরে রাখা যায় না। উপর মহলের তদবিরে এসব বেপরোয়া কিশোরদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।
বরিশাল নগরীতে কিশোর অপরাধের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের বিভিন্ন তদারকি সত্ত্বেও কোনোভাবেই তাদের রোধ করা যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কিংবা সড়ক-মহাসড়কের মোড়ে, আবার অলিতে-গলিতে এদের আড্ডা সাধারণ মানুষের আতঙ্কের কারণ। এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন নামে গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাংয়ের এসব কোরাম। এসব গ্যাংয়ের বেশির ভাগই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী। যাদের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর এর মধ্যে।
সামাজিক পর্যটন স্থানগুলোতে মেয়েদের ছবি তোলা, ভিডিও করাসহ নানান ভয়ঙ্কর সব অপরাধের সঙ্গে জড়িত এসব গ্যাং। নগরীজুড়ে বিকট আওয়াজ এ মোটরসাইকেলের মহড়া, মেয়েদের ইভটিজিং ও চুরি-ছিনতাই এদের নিত্যদিনের কাজ।
কিছুদিন আগে গড়িয়ারপার এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা ছিনতাই করলে খবর পেয়ে বরিশাল বিমানবন্দর থানা পুলিশ কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নুরুল হাজি (১৭), মো. মারুফ (১৬), অগ্রজিত (১৭), নামের তিনজনকে তাৎক্ষণিক আটক করে।
বঙ্গবন্ধু উদ্যানে ঘুরতে গিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করে কিশোর অপরাধীদের হামলার শিকার হন এক পুলিশ সার্জেন্টের স্ত্রী। এ সময় কিশোর অপরাধীরা গাঁজা সেবন সহ আরও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় সার্জেন্টের স্ত্রী ‘কিশোর গ্যাং’ এর ২৫ সদস্যের বিরুদ্ধে বিএমপি’র কোতয়ালী থানায় মামলা করার পরে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ১৬ বছরের ওই কিশোর নগরীর কেডিসি আব্দুর রাজ্জাক কলোনির বাসিন্দা।
কাউনিয়া ব্রাঞ্চরোড এলাকাটি কিশোর গ্যাংয়ের যেন অভয়ারণ্য। দ্বিতীয় পুকুর এলাকাটি সবসময়ই মাদকের রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। যেখান থেকে ক্বলাবক রোড, ভাটিখানা কিংবা সাহাপাড়ায় মাদক দেদারছে পরিবহন করা হয়। ৪/৫ কিলো দূর থেকেও এ এলাকায় জড়ো হয় কিশোর গ্যংয়ের সদস্যরা।
সম্প্রতি এক পুলিশের গায়ে হাত তোলার পর এক কিশোরকে আটক করা হয়। বিকালে আটকের পর রাত ১০টায় তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। কাউনিয়া এলাকায় অন্তত ৫টি স্পটে সক্রিয় কিশোর গ্যাং।
এসব অপরাধের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বরিশাল সদর উপজেলার একটি মাছের ঘেরে অভিযান চালিয়ে ১৪টি দেশি অস্ত্র উদ্ধার এবং কিশোর গ্যাংয়ের দুই সদস্যকে আটকের খবর জানিয়েছে পুলিশ। চরবাড়িয়া ইউনিয়নের সাপানিয়া এলাকায় শনিবার গভীর রাতে এ অভিযান চালানো হয় বলে কাউনিয়া থানার ওসি সনজিৎ চন্দ্র নাথ জানিয়েছেন।
আটকরা হলেন- নগরীর কাউনিয়া থানার পোল এলাকার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত জসীম উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে মেহেদী হাসান এবং ভাটিখানা এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের খলিল মৃধার ছেলে আব্দুর রহমান। পুলিশের ভাষ্য, উদ্ধার করা দেশি অস্ত্রের মধ্যে দু’টি ধারালো ছুরি, একটি হাঁসুয়া, দু’টি ড্যাগার, পাঁচটি রামদা ও দু’টি চাইনিজ কুড়াল রয়েছে।
