তীব্র গরমের মধ্যে যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লোডশেডিং চরম আকার ধারণ করেছে। দিনরাত মিলিয়ে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা। বিদ্যুৎ চলে গেলেই তীব্র গরমে রোগীদের হাতপাখা দিয়ে বাতাস করতে হচ্ছে স্বজনদের। অথচ হাসপাতালের একমাত্র জেনারেটরটিও প্রায় দুই বছর ধরে অচল হয়ে পড়ে আছে। সরজমিন দেখা যায়, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম অস্বস্তি বিরাজ করছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ায় চিকিৎসাসেবাতেও বিঘ্ন ঘটছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, লোডশেডিংয়ে চিকিৎসাসেবায় ব্যবহৃত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
বিশেষ করে অপারেশনের সময় বিদ্যুৎ চলে গেলে চিকিৎসকদের বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়া কনসেনট্রেটর, নেবুলাইজার, সাকার, জীবাণুমুক্তকরণ যন্ত্র, এক্স-রে ও আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ অফিসের কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। উপজেলার প্রেমবাগ ইউনিয়নের চেঙ্গুটিয়া গ্রামের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী মশিয়ার মোল্লা বলেন, তিন-চারদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। দিনে ৮-৯ বার বিদ্যুৎ চলে যায়। কী যে কষ্টে আছি, তা দেখার কেউ নেই। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টোরকিপার আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, হাসপাতালের জেনারেটরটি দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। জেনারেটরটি অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় এটি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে হাসপাতালের সব ইউনিটকে আইপিএসের আওতায় আনার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মাহফুজুর রহমান সবুজ বলেন, বর্তমানে হাসপাতালে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। হাসপাতালে থাকা একটি জেনারেটর দুই বছর ধরে তেলের বরাদ্দ না থাকায় অচল হয়ে পড়ে আছে। অপারেশনের সময় লোডশেডিংয়ের কারণে সমস্যা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ না থাকলে ইনডোরে আইপিএসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ব্যাপারে যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর নওয়াপাড়া জোনাল অফিসের এজিএম মো. মামুন বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কারণে লোডশেডিং হচ্ছে। প্রতিদিন নওয়াপাড়া গ্রিডে বিদ্যুতের চাহিদা ৫২ মেগাওয়াট। বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে ৩৮ মেগাওয়াট। ফলে ১৪ মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে।
