রেললাইনের উপর বিপদে পড়েছিল ১০ বছরের শিশু রাহাত। সামনে দ্রুতগতির ট্রেন। শিশুটিকে বাঁচাতে ছুটে যান দেলোয়ার হোসেন মিন্টু (৫৫)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নিজেই ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনি। গুরুতর আহত হয় রাহাতও। দুর্ঘটনায় তার ডান হাত ও ডান পা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর রেলওয়ে ক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন ষোলশহর স্টেশনের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) অসীম ধর।
নিহত দেলোয়ার হোসেন মিন্টু পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান ছিলেন। তার বাসা নগরের পূর্ব নাসিরাবাদ তুলাতলী এলাকায়। গ্রামের বাড়ি ফেনীতে। আহত রাহাত পাঁচলাইশ থানার ২ নম্বর গেট এলাকার মো. ফারুকের ছেলে। দুর্ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন। রাহাতের বাবা মো. ফারুক বলেন, জুমার নামাজের পর চটপটি খেতে বের হয়েছিল তার ছেলে। কিছুক্ষণের মধ্যেই আসে দুর্ঘটনার খবর।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, আচমকা ট্রেন এসে আমার ছেলের জীবনটা শেষ করে দিলো। এখন আমার ছেলের হাত নেই, পা নেই। এ ঘটনায় আব্দুর রহমান (৩০) নামে আরও একজন আহত হয়েছেন। তবে তার অবস্থা গুরুতর নয় বলে জানা গেছে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার ওসি সুজন কান্তি দে বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে রেললাইনের উপর থাকা শিশুটিকে বাঁচাতে গিয়ে ট্রেনের ধাক্কায় একজন নিহত হয়েছেন। শিশুটিও আহত হয়েছে।
