নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে কাঁদছে নেহার বেগম

নদীভাঙনে নিঃস্ব হয়ে কাঁদছে নেহার বেগম

ফন্ট সাইজ:

‘বাপের ভিটার এটটু জমি পাইছিলাম সেটাও নদীতে গিলে খাইলো। আমার সবই শেষ হয়ে গেল, আমি কই থাকবো, খাবো কি? কই যাবোরে বাবা?’ অশ্রুসিক্ত চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে আর এভাবেই আর্তনাদ করে আকুতি মিনতি করছিল মহম্মদপুর উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের চুড়ারগাতি তালতলা গ্রামের স্বামী হারা নেহার বেগম (৬৫)। এক ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে বাবার ভিটার এক টুকরা জমিতেই বসবাস করতেন তিনি। মধুমতীর ভয়াল থাবায় নিমিষেই শেষ হয়ে গেল তার মাথা গোঁজার ঠাঁই ও স্বপ্ন। উজান থেকে নেমে আসা ঢল আর নদীর পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই মধুমতি নদী তার সেই চিরচেনা রাক্ষুসে রুদ্রমূর্তি ধারণ করছে। বাড়িঘর, স্কুল, মাদ্রাসহ নানা স্থাপনা।

প্রতি বছরের মতো এবারের নদীভাঙনের কবলে উপজেলার বাবুখালী ইউনিয়নের ১৫টি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন তারা। সরজমিন বাবুখালী চুড়ারগাতী তালতলা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, জিয়ার রহমান, তোফায়েল আহম্মেদ, শরিফুল ইসলাম, মনির, রবিউল, ইবাদত, শাহাদতসহ ১৫টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন বলে জানা যায়। ক্রমাগতভাবে পানি বাড়তে থাকায় নদীভাঙন ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ভাঙন ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করায় নদীতীরে ভাঙনের মুখে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। এ ছাড়া উপজেলার নদী তীরবর্তী বাবুখালী, চরপাচুড়িয়া, মহেষপুর, কাশিপুর, ভোলানাথপুর, আড়মাঝি, ঝামা, হরেকৃষ্ণপুর ও রুইজানি এলাকার ভাঙনকবলিত অধিবাসীদের এখন দিন কাটছে আতঙ্কে।

এসব গ্রামের মসজিদ, মন্দির, ঈদগাহসহ হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও বসতবাড়ি এ বছর বেশি ভাঙনের কবলে পড়েছে। গত দুই বছরে বর্ষা মৌসুমে মধুমতীর ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে ৪৫টি পরিবারের শতাধিক ঘরবাড়ি। এ বছর ভাঙনের মুখে রয়েছে অসংখ্য দোকানপাটসহ হাজার হাজার একর ফসলি জমি। হরেকৃষ্ণপুর এলাকায় নদীভাঙনে খবির ডাক্তার, বশার মিয়া, লিমন মিয়া, হারুন মিয়াসহ অনেকেরই বাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ায় সহায়-সম্বল হারিয়ে অনত্র আশ্রয় নিয়েছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, অতি দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই নদী তীরবর্তী পরিবারগুলো নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এবং শত শত পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রি বলেন, ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি স্থানে ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) সন্তোষ কর্মকার মানবজমিনকে বলেন, ভাঙনের খবর পেয়েছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আপাতত ভাঙন ঠেকাতে চরঝামা, ঝামা ও হরেকৃষ্ণপুর এলাকায় ৩০০ মিটার জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে। অন্য কয়েকটি জায়গার নাম প্রস্তাবনায় পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে সেখানেও জিও ব্যাগ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তবে কীভাবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকানো যায় সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলমান।