বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবি ১৪ জেলেকে জীবিত উদ্ধার

ফন্ট সাইজ:

বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার শেষে উপকূলে ফেরার পথে উত্তাল সাগরের প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে বরগুনার তালতলী উপজেলার ‘এফবি মায়ের দোয়া’ নামে একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ট্রলারে থাকা ১৪ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ডুবে যাওয়া ট্রলারটির এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার ফকিরহাট এলাকা সংলগ্ন ১২ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে এ ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া জেলেদের মধ্যে ১৩ জন তালতলী উপজেলার বাসিন্দা এবং ১ জন সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা। তালতলী উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বুধবার উপজেলার নিদ্রা এলাকার জাফর মিয়ার মালিকানাধীন ‘এফবি মায়ের দোয়া’ ট্রলারটি ১৪ জন জেলে নিয়ে সাগরে মাছ শিকার করতে যায়।

বৃহস্পতিবার সাগরের আবহাওয়া খারাপ হয়ে উত্তাল হয়ে উঠলে জেলেরা ট্রলার নিয়ে উপকূলে ফিরতে শুরু করেন। ট্রলারটি ফকিরহাট এলাকা সংলগ্ন ১২ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছালে প্রচণ্ড ঢেউয়ে ট্রলারটি উল্টে পড়ে যায়। ট্রলারডুবির খবর পেয়ে ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ও স্থানীয় জেলেরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। রাত ১০টার দিকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় ‘সেলিম মাঝীর’ ট্রলারের সহায়তায় ১৪ জেলেকেই উদ্ধার করা হয়। পরে তারা ওই ট্রলারে নিরাপদে অবস্থান নেন। তবে উদ্ধার হওয়া জেলেরা এখনো উপকূলে ফিরে আসেননি।

উদ্ধারকারী ট্রলারের মাঝি রাজু মিয়া বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং রাত ১০টার দিকে সাগরে ভাসতে থাকা ১৪ জেলেকেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করি। তবে সাগর উত্তাল থাকায় ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. মজিবর ফরাজী বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘাটে থাকা জেলেদের ট্রলার পাঠিয়ে তাদের সকলকে উদ্ধার করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, ট্রলারডুবির ঘটনায় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বঙ্গোপসাগরে উদ্ধারকারী ট্রলারে সব জেলে বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং তাদের দ্রুত উপকূলে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।