রংপুরে মাদকের ভয়াবহতায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

রংপুরে মাদকের ভয়াবহতায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

ফন্ট সাইজ:

রংপুরে মাদকের ভয়াবহ থাবায় যুবসমাজ ধ্বংসের পথে। নেশার নীল দংশনে নীল হয়ে পড়েছে রংপুরের তরুণ ও যুবসমাজ। মাদক ব্যবহারের কারণে গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। বেড়েছে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি এমনকি খুন-হত্যার মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা। সবচেয়ে বড় ধরনের লোমহর্ষক দেশকাঁপানো ঘটনা ঘটেছে ২২শে আগস্ট। সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ নামের দুই যুবককে মাদক সেবন করতে দেখে বাধা দেয়ার ঘটনায় রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ চারজনকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। প্রশ্ন ওঠে- মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ব্যর্থতা ও নীরব ভূমিকার। অনুসন্ধানে জানা যায়, রংপুর নগরীর বৈরাগীপাড়া, দাসপাড়া-মাছুয়াপাড়া, তাঁতিপাড়া, রবার্টসনগঞ্জ, স্টেশন-কলোনি, বাবুপাড়া, খেরপাড়া, হনুমান তলা, নিউ জুম্মাপাড়ার সুইপার কলোনি, টার্মিনাল, সিও বাজার, মুলাটোলসহ বিভিন্ন এলাকায় দেদারছে চলছে মাদকের কারবার।

পুলিশ লাইনের পাশেই টাউন হল চত্ব্বর, জুলাই চত্বর, ডিবি কার্যালয়ের ১শ’ গজের ভেতরে মাদকসেবীদের আড্ডা দেখা যায়। মাদকে জড়িয়ে পড়েছে স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থীরাও। মাদকের বড় ঘাঁটি হিসেবে রংপুর হারাগাছ চিহ্নিত রয়েছে। পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নখদর্পণে থাকলেও তারা রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। মাদকের করাল গ্রাসে পড়ে নষ্ট হচ্ছে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। নেশার টাকা জোগাড় করতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে তারা। বস্তি এলাকা থেকে শুরু করে অভিজাত এলাকাগুলোতে মাদকসেবনের অভয়ারণ্য তৈরি হয়েছে। মাদক পরিবহনে শিশু-কিশোরদের ব্যবহার করা হচ্ছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদিত মদের পরিমাণ ও ক্রেতার সংখ্যা কোনোটাই মানছে না নামধারী বৈধ ব্যবসায়ীরা। ফলে সামাজিক নৈতিক অবক্ষয় রোধ করা যাচ্ছে না। বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। রংপুর বিভাগীয় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুরে তিনটি বৈধ মদ বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে।

এগুলো হচ্ছে- রংপুর সদর, বদরগঞ্জ ও কাউনিয়া উপজেলায়। এ ছাড়া, কুড়িগ্রামে দুইটি, লালমনিরহাটে দুইটি, নীলফামারীতে ৩টি, পঞ্চগড়ে একটি ও দিনাজপুরে ৪টি বৈধ মদ বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি উৎপাদিত দুই ধরনের মদ বিক্রির অনুমতি রয়েছে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ মদ লাইসেন্সধারী ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার নিয়ম। নিয়ম না মেনে নির্দিষ্ট পরিমাণের কয়েকগুণ বেশি মদ বিভিন্ন পন্থায় সংগ্রহ করে বিক্রি করা হচ্ছে। লাইসেন্সধারীদের কাছে মদ বিক্রির বাধ্যবাধকতা থাকলেও লাইসেন্স ছাড়াও অবাধে মদ সেবন ও বিক্রি হচ্ছে। এসব বিষয় ওপেন সিক্রেট। সম্প্রতি রংপুরের কাউনিয়ায় সরকার অনুমোদিত একটি দেশি মদের বিক্রয়কেন্দ্রে মদ বিক্রি ও সেবনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিও’র সূত্র ধরে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে ৮-১০ বছর বয়সী শিশু মদের পাত্র বহন করে নিয়ে যাচ্ছে। একাধিক ব্যক্তি প্রকাশ্যে বসে মদ খাচ্ছে। এ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কাউনিয়া কেন্দ্রের মদ বিক্রেতা রতন সরকার বলেন, আমি লাইসেন্স ছাড়া মদ বিক্রি করি না।

ভিডিও’র মদ খাওয়ার বিষয়টি সুইপারদের। পাত্রে করে মদ নিয়ে যাওয়ার শিশুটিও সুইপারের ছেলে। সুইপাররা জন্মের পর থেকেই মদ খায়। ওদের বাধা দেয়া যায় না। লাইসেন্স ছাড়া অনেকে মদ পাচ্ছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুুইপার অথবা লাইসেন্সধারী কারও মাধ্যমে তারা মদ সংগ্রহ করে সেবন করেন। রংপুর বিভাগীয় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মাসুদ হোসেন বলেন, কাউনিয়ায় মদ বিক্রি, সেবন ও শিশু দিয়ে পরিবহন করা প্রসঙ্গে বলেন, ভিডিওটি আমাদের কাছে এসেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ছাড়া, মাদক নিয়ন্ত্রণে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।